কুষ্টিয়া মেডিকেলে নির্মাণাধীন ছাদ ধসে শ্রমিক নিহত, আহত ৫

সমাজের কথা ডেস্ক॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচ জন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে ঢালাই চলাকালে হঠাৎ সাটারিং ভেঙে ছাদটি ধসে পড়ে।
নিহত হয়েছেন কুমারখালী উপজেলার চড়াইকোল গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান (৫৫)।
আহতরা হলেন নিহত বজলুর রহমানের ছেলে পলিটেকনিক ইন্সস্টিটিউটের ছাত্র গালিব (২৩), শাহবুদ্দিন (৪২), পলান মন্ডল (৬০), কুমারখালীর কয়া গ্রামের সোহেল (২৫) এবং চড়াইকোল গ্রামের ইউনুস আলী (৫৫)।
তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কর্মরত শ্রমিকদের বরাত দিয়ে ওসি নাসির বলেন, তিনতলার সমান উচ্চতার ওই ছাদ ঢালাইয়ের শেষের দিকে হঠাৎ সাটারিং ভেঙ্গে পড়ে। সেখানে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হয়।

তিনি জানান, সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে উদ্ধার কাজ করেন। আহতেদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের ছাদ ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত সাটারিং করতে যেসব সরঞ্জাম দরকার এখানে সেগুলি ব্যবহার না করা ও সাটার নির্মাণে কারিগরি ত্রুটি থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাস্তবায়নকারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হান্নান বলেন, নির্মাণাধীন হাসপাতাল ভবনের কাজ প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রেখেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

“হঠাৎ করে তারা কবে থেকে কাজ শুরু করেছেন তা গণপূর্ত বিভাগ অবগত নয়। তাছাড়া ঢালাই শুরুর আগে সাটারিং ঝুঁকিমুক্ত ছিল কিনা সেগুলি পরীক্ষা না করেই ঢালাই শুরু করেছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।”

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প পরিচালক ডা. আশরাফুল ইসলাম দারা বলেন, “নির্মাণকালে অবশ্যই কোনো ত্রুটি ছিল, তাই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শ্রমিক নিহত ও ছয় শ্রমিক আহত হন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার