যশোরে উত্ত্যক্তের জের ধরে ছাত্রীর আত্মহত্যা ।। জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে বখাটেদের উত্ত্যক্তে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হালিমার আত্মহত্যা প্ররোচণাকারীদের বিচার দাবি করেছে পরিবার। এলাকার জাহিদুল ইসলাম ওরফে বিদ্যুত মেম্বরের সেল্টারে থেকে আসামিরা মামলা প্রত্যাহারসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এদিন দুপুর ১২টার দিকে মৃত হালিমার চাচা আলাউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন পাঠ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আমির আলী মোড়ল, মৃতের মা হাজেরা বেগম ও বড় ভাই আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য তার বড় ভাবি হাজেরা বেগম, ভাইপো আব্দুল্লাহ ভোট কেন্দ্রে যান। এসময় আব্দুল্লাহ’র ছোট বোন রামনগর দারুস ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হালিমা খাতুন ও সাথে ঘুরতে যায়। ভোট দিয়ে ফেরার পথে একই এলাকার ইউসুফ, নিরব, জীবন, সুমন, শান্ত, রাশেদসহ বেশ কয়েকজন হালিমাকে উত্ত্যক্ত করে। এছাড়া ওই বখাটেরা হালিমার হাত ধরে টানা হেঁচড়া করে। ঠেকাতে গেলে হালিমার মা ও ভাইকে কুপিয়ে এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে বখাটেরা। এসে হালিমা নিজের অপমান সইতে না পেরে পরদিন ৩১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ওইদিনই হালিমার ভাই আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু গত ১৫দিন পার হলেও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে আসামিরা প্রকাশ্যে থেকে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বাদী ও তার পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এ মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজন এলাকার ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বিদ্যুতের একান্ত আপনজন। তাই আসামি গ্রেপ্তারের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের তদবির ছাড়াও আসামিদের সেল্টার দিয়ে এলাকায় ঘুরাফেরা করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সে কারণে এ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও ন্যায় বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

শেয়ার