ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত পাগল চাঁদ ঠাকুরের মেলা

নড়াইল প্রতিনিধি॥ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পাগল চাঁদ ঠাকুরের মেলা।এ মেলায় গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে। এদিন মেলা প্রাঙ্গনে দর্শনার্থীদের সমাগমে তিল ধারনের ঠাই ছিল না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগমও বাড়তে থাকে। সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গায় দু’দিনব্যাপী পাগল চাদ ঠাকুরের মেলা সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হয়েছে। পূর্ব নির্ধরিত অনুযায়ী মেলা মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। আগন্তকদের অনুরোধে কর্তৃপক্ষ আজ বুধবার পর্যন্ত মেলার সময় বাড়িয়েছে। মেলাকে ঘিরে হিজলডাঙ্গা এখন শিশু-মহিলাসহ নানাবয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত। মুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বসবাসরত মানুষের আত্মীয়-স্বজন মেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শুরু করেছেন। এ এলাকার অনেকের কর্মস্থল দুরে হলেও মেলা দেখতে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছেন। ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে আসা ভক্ত রবীন্দ্রনাথ বিশ^াস জানান, পাগল চাঁদ ঠাকুরের মেলায় আসার জন্য ৩হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এখানে পৌঁছেছি। ইচড়বাহা গ্রামের পিযুষ কুমার জানান, পাগল চাদ ঠাকুরের মেলা আমাদের এলাকার পুরানো ঐতিহ্য। তিনি জানান, শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক এ মেলা প্রতিবছর বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিন শুরু হয়ে চলে পরেরদিন রাত পর্যন্ত। সীতারামপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী যুক্তা পোদ্দার জানায়, মেলায় আনন্দ করার জন্য সারা বছর আমরা অপেক্ষায় থাকি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মেলায় গিয়ে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করে থাকি।
মেলা কমিটির সেক্রেটারি ও হিজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন কুমার রায় বলেন, শতবছর আগে থেকে এ মেলার সূচনা হয়। পরবর্তীতে এসে মেলার কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। আধ্যাত্মিক সাধক পাগল চাদ ঠাকুর ওরফে ল্যাংটা পাগলের স্মরণে অনুষ্ঠিত প্রতিবছর এই মেলায় দূরদূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ ও পূণ্যার্থীরা এসে থাকেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দু’দিনব্যাপী মেলায় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ৫০ হাজারের বেশি লোকের সমাগম ঘটেছে বলে তিনি জানান।
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেলাস্থলে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে আধ্যাত্বিক সাধক পাগল চাঁদ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ^াস। মেলা কমিটির সভাপতি কিশোর কুমার বিশ^াসের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ অধিকারী।
মেলা প্রাঙ্গনে গ্রামীণ কুঠির শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের কমপক্ষে ৫শ’ স্টল বসেছে।

শেয়ার