উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা

সাজ্জাদ আহমেদ, ঝিনাইদহ॥ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা। উন্নয়নে মাইল ফলক স্পর্শ করেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন। মঙ্গলবার দুপুরে গান্না ইউনিয়ন ও মধুহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন জেলা ফ্যাসিলেটেটর এ এ ইমন বিন রেজা (ইমন খাঁন)। এসময উপস্থিত ছিলেন গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন মালিতা, মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ জুয়েল, সচিব প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, সচিব নির্মল কুমার বিশ্বাস। এদিকে পৌর এলাকায় ৯টি ওয়ার্ডে পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু পৌর নাগরিকদের সুবিধার্থে সকল উন্নয়ন দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শহরকে জানযট মুক্ত শহর গড়ে তুলেছেন। ড্রেন-কালভাট করে শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। বন্যা ও বাসা বাড়ির পানি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেছেন। বিশাল শহীদ মিনার,বঙ্গবন্ধুর ভাস্বকর্য, দরিদ্র ও অসহায় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনা বৃদ্ধি, অসহায়দের মধ্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করছেন। এক কথায় উন্নয়নের শেষ নেই।
এডিপি বাস্তবায়ন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, দরিদ্রদের ঘরবাড়ি তৈরি, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, পরিবেশ সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, ভুমি ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ ভৌত অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। ঝিনাইদহ সর উপজেলা থেকে প্রকাশিত ‘উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ বই থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সূতওমতে, গত ২০১৬/১৭ অর্থ বছরে এক কোটি ৭৬ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার এডিপি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। কৃষি ও ক্ষুদ্র সেচ, মৎস্য, কুটির শিল্প, পরিবহন ও যোগাযোগসহ ১০টি খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।
গত ২০১৭/১৮ অর্থ বছরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে ২২ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৯৩ জন। ১৭টি ইউনিয়নে সমিতি আছে ৩৩১টি। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয়ান প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৯০টি দরিদ্র পরিবারকে এক লক্ষ টাকা ব্যয়ে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এই খাতে ব্যয় করা হয়েছে ৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। জেলা সদরের ৮৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ৬৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডিজিঠাল হাজিরা সিষ্টেম চালু করা হয়েছে। এছাড়া ৯৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লামরুম চালু করা হয়েছে। ১০টি স্কুলে বসানো হয়েছে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব। শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে খেলাধূলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ৬০০ স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষার্থীরদের মধ্যে ১২’শ ছাতা বিতরন হয়েছে। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৪ লক্ষ টাকার শিক্ষা বৃত্তি দেয়া হয়েছে। বাইসাইকের ও বয়োসন্ধিক্ষণকালীন স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা। গত ১০ বছরে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৫০০টি হোম সোলার বসানো হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ প্রদানের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ১ লাখের বেশি গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩টি নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার ৬৮০ জনকে বয়স্ক ভাতা ৫ হাজার ৬৫৫ জনকে বিধবা ভাতা ২৬১৩ জনকে অস¦চ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হয়েছে। হিজড়া ও দলিত জনগোষ্টিকে বিমেষ ভাতা হচ্ছে। সদর উপজেলায় ৬৫১জন ভিক্ষুককে ৮ লক্ষ ৯০২ হাজার টাকার উপকরণ দেয়া হয়েছে। ২০১৬ ও ১৭ অর্থ বছরে ভুমি ব্যবস্থাপনায় আদায় হয়েছে ৮৪ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা। রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৮৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাম্মী ইসলাম বলেন, সরকারের এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এতে ঝিনাইদহের মানুষ সুফল পাবেন। তিনি আরো বলেন, ভৌগলিক ভাবে এই জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। উন্নয়নের দিক থেকে অনেক সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছে জেলাটি।
পৌর মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, এই উন্নয়ন পৌর নাগরিকের সবার। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্বাহত রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছেন।

শেয়ার