শরণখোলায় বধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় স্বামী ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূ রেহেনা বেগমের (২১) পরিবার এই অভিযোগ করেছেন। তবে শশুরালয়ের দাবি, মৃত বধূ মানষিক রোগী ছিল। সে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গা থানায় ১২ জানুয়ারি একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা ও গৃহবধুর পিতা হারুন হাওলাদার বলেন, গত বছর খানেক পূর্বে চাল-রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা সুলতান মোল্লার ছেলে স্থানীয় তাফালবাড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আসলাম মোল্লা (৩২) এর সাথে রেহেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আসলাম ও তার পরিবারের লোকজন রেহেনাকে প্রায়ই নির্যাতন করত। হঠাৎ শুক্রবার বিকেলে রেহেনা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি আসলাম কাউকে না জানিয়ে রেহেনাকে প্রথমে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান তার অবস্থার অবনতি ঘটলে একই দিন রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে রোববার তার মেয়ে মারা যান। রেহেনার পিতা আরও বলেন, মেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর আসলামের পরিবার থেকে জানানো হয়নি। আসলামসহ তার পরিবারের সদস্যরা মিলে রেহেনাকে সু-পরিকল্পিত ভাবে বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান। তবে রেহেনার স্বামী আসলাম মোল্লার দাবি (মানষিক ভারসম্যহীন) ছিলেন তার স্ত্রী। যে কারনে বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে সে মারা যায়। অপরদিকে, এ ঘটনায় রেহেনার পরিবারকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে স্থানীয় শালীস বৈঠকে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আসলাম মোল্লা বলেন, সু-পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়টি সঠিক নয়। এছাড়া ক্ষতিপূরণ কথাটি ঠিক নয়, রেহেনার নামে দোয়া অনুষ্ঠানের জন্য কিছু টাকা দেয়া হবে।

শেয়ার