ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে পিঠা উৎসব ও ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা

সাজ্জাদ আহমেদ, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জমজমাট পিঠা উৎসব ও ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা। পৌষের শেষ ভাগে কনকনে শীতে যখন সারাদেশ জবুথবু; তখন মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে ঝিনাইদহে আয়োজন করা হলো পিঠা উৎসবের। রোববার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে এই আয়োজন করা হয়। যেখানে রকমারি পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন গৃহবধু ও নানা সংস্থার নেতৃবৃন্দ।এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম, লেডিস ক্লাবের সভাপতি শ্যামলী নাথ,ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক জীবন কুমার বিশ্বাস প্রমূখ। পিঠা মেলা পরিদর্শনে এসে অভিভুত খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, এমন আয়োজন তার চাকুরি জীবনে এই প্রথম দেখলেন। এ আয়োজনে যুব সমাজের যে উৎসবমুখর অংশগ্রহণ তা লক্ষনীয়। বর্তমান সরকারের এটাই লক্ষ্য যে বিভিন্ন খেলা, সংস্কৃতি চর্চা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ থেকে তাদের দুরে রাখা। জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে সে প্রয়াস সফল হয়েছে।
আয়োজক জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে খাবার অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। পৌষের এই শেষ দিনে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ প্রয়াস।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য পিঠা উৎসব ও ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে যোগ হতে পেরে নিজেকে আজ গর্বিত মনে করছি।
ঝিনাইদহ লেডিস ক্লাবের সভাপতি শ্যামলী নাথ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের ব্যতিক্রমী আয়োজনকে আমি সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে এ ধরণের আয়োজন প্রতি বছরই হওয়া দরকার। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের ছাত্র বাধন বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলায় গ্রামের মাঠে ধান কাটা শেষ হলে ঘুড়ি উড়াতাম। এখন আর সেই বয়স বা সেই সময় নেই। আজ ঘুড়ি ওড়ানো দেখে মনে হচ্ছে ছোট বেলায় ফিরে গেছি।
উল্লেখ্য জমজমাট এই পিঠা উৎসবে পাটি সাপটা, জামাই ভাজা, বকুল পিঠা, গোলাপফুল, সিমফুল দুধপুলি, চন্দ্রপুলিসহ প্রায় ৫০ রকমের পিঠার আয়োজন করা হয়। ফুল, পাতা ও পাখিসহ বাহারি নকশার এসব পিঠাপুলির স্বাদ পেতে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন নারী-পুরুষ শিশুসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম এলাকা যেন পিঠা প্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সেই সাথে বাড়তি আনন্দ যোগ করে ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা। রং বেরংয়ের নানা ঘুড়ি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুশি অংশগ্রহণকারীরা।

শেয়ার