হলুদের গালিচায় ভরে গেছে ক্ষেত

হলুদের গালিচায় ভরে গেছে ক্ষেত

সালমান হাসান
সবজি হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি মশলা হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে শীতকালীন ফসল সরিষার ব্যবহার প্রধানত ভোজ্য তেল হিসেবে। গবাদি পশুর খাদ্য ও জমির সার হিসেবেও ব্যবহার হয় সরিষার খৈল। বহুবিধ ব্যবহার সুবিধার এই শস্য সরিষার আবাদে খরচ হয় নামমাত্র। আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলনও বাম্পার হয়। বাজারে তুললে ভাল দামও পাওয়া যায়। তাই ফি-বছরই বাড়ছে যশোরে সরিষার আবাদ।
ফলে চলতি রবি মৌসুমে যশোরের ফসলের খেত থেকে আকাশ পানে উঁকি মারছে হলুন বরণ সরিষার ফুল। আদিগন্ত ফসলের মাঠ জুড়ে রয়েছে তৈলবীজ ফসল সরিষা। হলুদের গালিচায় ভরে গেছে মাঠঘাট। পৌষের ফসলের মাঠে গেলে দৃষ্টি মেললে এখন নজরে আসে হলুদ আর হলুদ। হলুদিয়া সাঁজে সেঁজেছে রূপসী বাংলার প্রান্তর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানায়, গত রবি মৌসুমে জেলার আটটি উপজেলায় ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৪৩০ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়। চলতি রবি মৌসুমে আটটি উপজেলার ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করেছের চাষিরা।
আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ে জমি ফেলে না রেখে সরিষার চাষ করে লাভবান হওয়া যায় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। আমন কাটার পর জমিতে কোন রকম একটু চাষ দিয়ে মই টেনে বীজ ছিটিয়ে দিলে চারা গজায়। এরপর দুই একবার সেচ নিড়ানি দিলে সরিষার ভাল ফলন পাওয়া যায়। তেমন বেশি পরিচর্যা লাগে না। যশোর সদরের সুজলপুর এলাকার একটি মাঠে সরিষা ক্ষেত দেখছিলেন কৃষক আসমত শেখ। আলাপচারিতায় তিনি জানান, নভেম্বর মাসে আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষার বীজ বপন করেন। সরিষার গাছে ইতিমধ্যে ফল ধরেছে। জানুযারির মাঝামাঝি তিনি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ফলন ভাল হওয়া দুই বিঘা জমি থেকে ৮ থেকে ১০ মণ সরিষা পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে চাঁচড়ার ভাতুড়িয়া এলাকার কৃষক আতাউর রহমান ও শামীম শেখ হরিনার বিলে পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তারা বলেছেন, সরিষার আবাদ বেশ লাভজনক। কারণ চাষাবাদ খরচ কম। তাছাড়া আবহাওয়া ভাল থাকলে রোগ বালাইও খুব বেশি হয় না। এবছর এখনও ঘন কুয়াশা পড়েনি। যে কারণে রোগ বালাইও তেমন হয়নি। আমন ফসল কাটার পর পরই আমরা সরিষা বুনেছি। গাছে ফলও ধরেছে। ফলে প্রচুর ঠান্ডা ও শৈত্য প্রবাহের জন্য ঘন কুয়াশা পড়ে নষ্ট হওয়ারও আশংকা নেই। গত কয়েক বছর ধরে আমন ও বোরোর মধ্যবর্তী সময়ে যখন ফসলের মাঠ খালি থাকছে তখন সরিষা বুনে দিচ্ছি। বোনাস ফসল হিসেবে সরিষা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জাতভেদে সরিষা পাকতে ৭৫ খেকে ১০০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। বিঘা প্রতি ফলন হয় ৩ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত। যশোর অঞ্চলে বারি, টরি, রাই, দৌলন, কল্যানিয়াসহ বিভিন্ন জাতের সরিষার চাষ হয়ে থাকে।