শেখ হাসিনা সরকারের টানা দশ বছর উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘ দশ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। মাত্র এক দশক আগেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটত বড় একটি জনগোষ্ঠীর। অধিকাংশ অঞ্চল ছিল বিদ্যুতহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ছিল মাটির দেয়াল অথবা পাটখড়ি বা বাঁশের বেড়া আর খড়ের ছাউনিতে তৈরি। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের সেই চিত্র আর নেই। মাত্র দশ বছরেই পাল্টে গেছে দেশের সার্বিক দৃশ্যপট। অধিকাংশ বাড়িঘর দাঁড়িয়ে আছে ইট-সিমেন্ট অথবা টিনের ওপরে। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের বাড়িতে জ্বলছে বিজলি বাতি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় বিতাড়িত হয়েছে বললেও ভুল হবে না। মঙ্গা নামক শব্দটি এখন ইতিহাস। বদলে গেছে তলাবিহীন ঝুড়ির কথিত ভাবমূর্তিও। জঙ্গী-সন্ত্রাসীরাও পড়েছে অস্তিত্বের সঙ্কটে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে। টানা দশ বছর ধরেই উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসোপানে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।’
দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পাঁচ বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে অতি সাধারণ মানুষ দেশের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন ঠিক এভাবেই। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের পায়রা উড়িয়েই আজ শনিবার টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার পাঁচ বছর পূর্ণ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ইতোমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনেরও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে। টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন ও শপথ গ্রহণও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দশ বছর সরকার পরিচালনার সাফল্য-ব্যর্থতার খেরোখাতায় যে লাইনটি সর্বাগ্রে উঠে এসেছে তা হচ্ছে- দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। ভয়াল জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসে সৃষ্ট শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শক্তহাতে মোকাবেলা করেই দেশকে অগ্রগতির মিছিলে শামিল করার পাশাপাশি সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই তৃতীয় মেয়াদের যাত্রা শুরু করছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।
সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের এই পাঁচ বছরে সাফল্য-ব্যর্থতার পরিমাপে সরকারের ঝুলিতে সাফল্যের পরিমাণ যে কয়েকগুণ বেশি, তা চরম সমালোচকও মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষমতার টানা দশ বছরেই বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে স্থাপিত করেছেন শেখ হাসিনার সরকার। সারাবিশ্বের উন্নয়নের রোলমডেল এখন বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা নেতাও এত স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি দেখে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঠিক পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের সময় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, বরং ছিল অত্যন্ত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারকে বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াত সৃষ্ট দুর্যোগের ঝড়ের মুখেই যাত্রা শুরু করতে হয়েছিল। সেই দুর্যোগ মোকাবেলার পর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ঘিরে আবারও ভয়াল সহিংসতা মোকাবেলা করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। বিএনপি-জামায়াতের টানা ৯২ দিনব্যাপি ভয়াবহ নারকীয় সন্ত্রাস-সহিংসতা ও অগ্নিসন্ত্রাসে পুড়েছে গোটা দেশ। দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে ওই রাজনৈতিক সন্ত্রাসে। তিনটি মাস ধরে দেশের মানুষ ছিল অগ্নিসন্ত্রাসের কাছে কার্যত অবরুদ্ধ। জোট সন্ত্রাসীদের পেট্রোল বোমায় পুড়ে জীবন গেছে প্রায় ৩১৩ নিরীহ সাধারণ মানুষের।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দৃঢ়, সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার অগ্নিপরীক্ষায় শুধু উত্তীর্ণই হননি, দেশের মানুষকে শান্তি-স্বস্তি প্রদানের পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ টেনে তুলে প্রগতি ও অগ্রগতির মিছিলে শামিল করতে সক্ষম হয়েছে। গণতন্ত্র ধ্বংসের সকল ষড়যন্ত্র-বেড়াজাল ছিন্ন করে দেশ স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ রেখেই বর্তমান সরকার মেয়াদের পঞ্চম বর্ষ শেষ করলো। আর টানা দুই বারের ধারাবাহিকতার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার গৃহীত মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গভীর সমুদ্র বন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তৃতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই এই এক-একটি প্রকল্পের পূর্ণতা পাবে। আরও দৃশ্যমান হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র।

SHARE