মাঘের শুরুতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পৌষের শেষে এসে দেশের বড় একটি অংশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।
শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়মনসিংহ বিভাগ এবং টাঙ্গাইল,ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, নেত্রকোণা, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল এবং ভোলা অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গায় শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন যশোরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীত ঋতুর মাঝবয়সে এসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমছে ক্রমেই। শেষ রাত থেকে দুপুর অবধি ঘন কুয়াশা চারদিকে। মেঘমুক্ত আকাশে তুলনামূলক কম জলীয় বাষ্পের সঙ্গে উত্তুরী হিম হাওয়ায় ‘বাঘ কাঁপানো মাঘ’ এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান  বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির শীত মৌসুমে শৈত্যপ্রবাহ স্বাভাবিক। গত ২৬ ডিসেম্বর যে মৃদু (সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছিল, এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।
“গত মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের কিছু এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। মাঝে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ২৮ পৌষ শুক্রবার থেকে আবার শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার ঘটছে। এ অবস্থা আরও দু’দিন থাকতে পারে।”
এবার শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। সেদিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় থার্মোমিটারের পারদ নেমেছিল ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি এই তেঁতুলিয়াতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা বাংলাদেশে রেকর্ড।
তার আগে ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল; ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে; সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে চলায় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, জানুয়ারি মাসে দেশে ২-৩টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) আকার ধারণ করতে পারে।

SHARE