শুরু আর শেষের ধাক্কা সামলে সিলেটের জয়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আগের ম্যাচের মতোই ব্যাটিংয়ের শুরুটা বিবর্ণ। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের আলোর ছটায় দূর হলো আঁধার। ম্যাচের শেষ ওভারে প্রতিপক্ষের প্রয়োজন ২৪ রান। তাতেও ঘিরে ধরেছিল অভাবনীয় হারের শঙ্কা। শেষ রক্ষা হলো সেখানেও। ব্যাটিংয়ের শুরু আর বোলিংয়ের শেষের ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল সিলেট সিক্সার্স।
বিপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় মাচে প্রথম জয় পেয়েছে সিলেট সিক্সার্স। বুধবার মিরপুরে শেষ বলে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়েছে তারা ৫ রানে।

শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসা সিলেটকে উদ্ধার করেন ডেভিড ওয়ার্নার, আফিফ হোসেন ও নিকোলাস পুরান। এই ত্রয়ীর সৌজন্যে ২০ ওভারে তোলে তারা ১৬৮ রান। চিটাগং রান তাড়ায় লেগে ছিল, কিন্তু শেষ করতে পারেনি কাজ। থমকে গেছে ১৬৩ রানে।

শেষ ওভারে ২৪ রানের তাড়ায় প্রথম চার বলের মধ্যে দুটি ছক্কা মারেন চিটাগংয়ের রবি ফ্রাইলিংক। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার।

ম্যাচের শুরুটাও ছিল ফ্রাইলিংকের দাপটে। আগের ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে চিটাগংয়ে জিতিয়েছিলেন। এ দিন আবারও নতুন বলে দলকে এনে দেন দারুণ শুরু। নিজের প্রথম ওভারে ফেরান লিটন দাসকে, পরের ওভারে সাব্বির রহমান। দুজনের কেউ দেখেননি রানের মুখ।

মাঝে অফ স্পিনার নাঈম হাসান ফেরান নাসির হোসেনকে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ৯ মাস পর মাঠে নেমে একটু সময় নিতে পারতেন নাসির। কিন্তু তৃতীয় বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে হলেন আউট। ৩ ওভার শেষে সিলেটের রান ৩ উইকেটে ৭।

এক প্রান্তে ওয়ার্নার ছিলেন অসহায় দাঁড়িয়ে। উইকেটে গিয়ে তাকে ভরসা জোগান তরুণ আফিফ। সিলেটের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু এই তরুণের ব্যাটেই।

চাপের মধ্যেও দারুণ সব শটে চমকে দেন আফিফ। ওয়ার্নার তাতে সুযোগ পান সময় নিয়ে গুছিয়ে ওঠার। দুজনের জুটিতে পঞ্চাশ আসে ৩১ বলে, তাতে আফিফেরই ছিল ৩৫ রান।

৪৭ বলে ৭১ রানের জুটি শেষ হয় আফিফের বিদায়েই। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ২৮ বলে ৪৫ রান করে আউট হন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

ওয়ার্নার ততক্ষণে ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। আগের ম্যাচে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাস নিয়ে পুরানও শুরু থেকেই ছিলেন ছন্দে। এই দুজনের জুটিতে ৭০ রান আসে ৪৭ বলে।

শুরুতে সময় নিলেও পরে পুষিয়ে দেন ওয়ার্নার। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ করেন ৪৭ বলে। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৩২ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে যান পুরান। শেষ ৬ ওভারে সিলেট তোলে ৬৭ রান।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ শাহজাদের ছক্কায় শুরু হয় চিটাগংয়ের রান তাড়া। বোলার তাসকিন আহমেদ শোধ নেন এক বল পরই। ওয়ার্নারের দারুণ ক্যাচে ফেরেন বিপজ্জনক এই আফগান ব্যাটসম্যান।

তবে শাহজাদের অভাব বুঝতে দিচ্ছিলেন না ক্যামেরন ডেলপোর্ট। তাসকিনের এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান মারেন দুই চার ও এক ছক্কা। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য নাসিরের অফ স্পিন এনেও কাজ হয়নি, ডেলপোর্ট জবাব দেন চার ও ছক্কায়।

অপ্রতিরোধ্য মনে হতে থাকা ডেলপোর্ট থামেন সন্দিপ লামিচানের সরাসরি থ্রোতে রান আউটে। তিনে নেমে ২৩ বলে ২২ রান করে দলকে চাপে ফেলে আউট হন মোহাম্মদ আশরাফুল।

মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন আউট হন বাজে দুটি শটে। দুজনকেই ফেরান অলক কাপালি।

চিটাগংয়ের মিইয়ে যাওয়া সম্ভাবনা আবার জাগিয়ে তোলেন সিকান্দার রাজা। দারুণ কিছু শটে ম্যাচে ফেরান উত্তেজনা। ২৮ বলে ৩৭ রান করা ব্যাটসম্যানকে নিজের শেষ ওভারে থামান তাসকিন।

এরপরও হাল ছাড়েননি ফ্রাইলিংক। চেষ্টা করে যান শেষ পর্যন্ত। কিন্তু আরেকপাশ থেকে পাননি সঙ্গ, পেরে ওঠেননি একার চেষ্টায়। অপরাজিত ছিলেন ৪ ছক্কায় ২৪ বলে ৪৪ রান করে।

আগের ম্যাচের হতাশা ভুলে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। উল্টো চিত্র ছিল আল আমিন হোসেনের। ৪ ওভারে রান গুনেছেন ৫৭, বিপিএলে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়া ইনিংসটি খেলে ম্যাচের সেরা পুরান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৬৮/৫ (লিটন ০, ওয়ার্নার ৫৭, নাসির ৩, সাব্বির ০, আফিফ ৪৫, পুরান ৫২*, অলক ২*; ফ্রাইলিঙ্ক ৪-০-২৬-৩, নাঈম ৪-০-২০-১, রাজা ৩-০-২৮-০, আবু জায়েদ ৩-০-৩৪-০, খালেদ ৩-০-৩৩-১, মোসাদ্দেক ৩-০-২৫-০)।

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৬৩/৭ (শাহজাদ ৬, ডেলপোর্ট ৩৮, আশরাফুল ২২, মুশফিক ৫, রাজা ৩৭, মোসাদ্দেক ৭, ফ্রাইলিঙ্ক ৪৪*, নাঈম ০, সানজামুল ২*; তাসকিন ৪-০-২৮-৪, ইরফান ৪-০-৩৫-০, নাসির ১-০-১০-০, আল আমিন ৪-০-৫৭-০, লামিচানে ৪-০-২১-০, আফিফ ১-০-৬-০, অলক ২-০-৬-২)।

ফল: সিলেট সিক্সার্স ৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: নিকোলাস পুরান

শেয়ার