যশোরে সনাকের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’র সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ গতকাল সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সভাকক্ষে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় হয়েছে। এসভায় সনাকের পক্ষ থেকে এক গুচ্ছ সুপারিশ করা হয়। তা হলো- ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা যাতে হাসপাতাল ভিজিটের নির্ধারিত দিন ও সময় মেনে হাসপাতালে প্রবেশ করেন তা পুনরায় নিশ্চিত করা; ডাক্তারদের রুমে যাতে রোগীর সাথে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি না থাকেন তা নিশ্চিত করা; সকল বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তারদের আরেকটু বেশি সময় নিয়ে রোগী দেখা; হাসপাতালে দালালদের উপস্থিতি বন্ধে নিয়মিতভাবে ব্যবস্থা নেয়া; ডাক্তারদের সহকারী এবং ওয়ার্ডে আয়ারা যাতে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে ভাল আচরণ করেন সেটা নিশ্চিত করা; হাসপাতালের খাবারের গুনগত মান ঠিক আছে কিনা তা নিয়মিত মনিটরিং করা; ইনডোর রোগীদের বেডকভার নিয়মিত পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা; টয়লেট নিয়মিত পরিস্কার করা প্রমুখ।
তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সনাক সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, সনাক সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অজয় কুমার সরকার, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকার, গাইনি কনসালটেন্ট ডা. রীনা ঘোষ, আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ, পাথলজিস্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহ, ইন্টার্নি চিকিৎসক সৌরভ রায় মিত্র, নার্সিং সুপারভাইজার মরিয়ম খাতুন, ওয়ার্ড মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম, স্টুয়ার্ড শাহজাহান প্রমুখ। সভার শুরুতে হাসপাতালের বর্তমান অবস্থার পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট ও সনাক’র সুপারিশমালা তুলে ধরেন সনাক সদস্য মাসুদুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সনাক সদস্য এ্যাড. সৈয়দা মাসুমা বেগম, এ্যাড. প্রশান্ত দেবনাথ, নওশাদ বানু প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালের শুদ্ধাচার ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও তার অগ্রগতি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এ এইচ এম আনিসুজ্জামান।
এ সভায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে। কোন রকম হয়রানি ছাড়া সেবাপ্রার্থীদেরকে যাতে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। ইতিমধ্যে হাসপাতালে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ইউনিট ও হাসপাতাল কম্পাউন্ডের নানা জায়গায় ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে, রোগী ও তাদের স্বজনরা যাতে দালালের খপ্পরে না পড়েন এবং হাসপাতাল সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতার জন্য নানারকম নির্দেশনামূলক বোর্ড সকল ইউনিটে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সাউন্ডসিস্টেমের মাধ্যমে সর্বক্ষণ সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। বহির্বিভাগের সামনে তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং হাসপাতালের তথ্যসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

শেয়ার