সরকার থেকে দলকে আলাদা রাখার যুক্তি ওবায়দুল কাদেরের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সরকার থেকে দলের ‘আলাদা সত্তা’ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি বলে যুক্তি দেখিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সোমবার বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, “কারও হারানোর কিছু নাই। নোবডি ইজ গোয়িং টু লুজ এনিথিং। আমার মনে হয় এটা দায়িত্বের পরিবর্তন, দায়িত্বের রূপান্তর।

“আমাদের সরকারের মধ্যে দলটা হারিয়ে যাক, আমরা চাই না। সেখানে সরকার আর দলের যে আলাদা সত্তা আছে, সেটা রাখতে হলে রেসপন্সিবল লিডারদের একটা অংশকে দলের দায়িত্বে রাখতে হবে।”

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, তাতে দলের প্রবীণ নেতাদের প্রায় সবাই বাদ পড়েছেন। গত মন্ত্রিসভার বেশিরভাই ঠাঁই পাননি নতুন সরকারে।

আওয়ামী লীগের ১৫ সদস্যের সভাপতিম-লীর মাত্র একজন আবদুর রাজ্জাক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাদে সম্পাদকম-লীর ৩২ জনের মধ্যে আটজনের ঠাঁই হয়েছে মন্ত্রিসভায়।

কাদের বলেন, “কেউ বাদ পড়েছেন এটা আমি বলব না। কেউ সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন, কেউ আরও বেশি করে দলের দায়িত্ব পালন করবেন।”

আগের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবেলা করতে হলে দলকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।”

জোটসঙ্গীদের কাউকে নতুন সরকারে না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গেই তো আছি। ১৪ দল আমাদের সঙ্গে আছে। এখন মন্ত্রী থাকা না থাকার উপর তো আমাদের অ্যালায়েন্স ভেঙে গেছে, এটা বলা যাবে না।

“মন্ত্রী তো পাঁচ বছরের ব্যাপার, মাঝে মাঝে এক্সপাংশন হবে, রিশাফল হবে, এর মধ্যে অনেকে যাবেন। আবার ভালো পারফর্মেন্স না থাকলে মাঝপথেও বিদায় নিতে হবে।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, “জনগণের রায়ের প্রতি তাদের সম্মান থাকা উচিত। মানুষ তাদেরকে রায় যতটা দিয়েছে, সেটাকে সম্মান করা উচিৎ।”

SHARE