পুনঃভোট সম্ভব না: আওয়ামী লীগ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও তাতে ভিন্নমত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায়’ নির্বাচন ভবনে বৈঠক করে ইসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম এই মত প্রকাশ করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়, সংবিধানেরও বিষয়। নতুন করে নির্বাচন করাও সম্ভব নয়। আর তত্ত্ববাধায়ক সরকারের দাবি পুরনো কথা, এটি আলোচনা করে লাভ নেই।

“অনেক কিছু তারা বলেছে ভুয়া কথা। তবে যেখানে অনিয়ম হয়েছে এবং তদন্তযোগ্য; নির্বাচন কমিশন নিশ্চয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ইসির প্রতি জনগণের আস্থা ‘আরও বেড়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন এইচ টি ইমাম।

নির্বাচন কমিশন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য বৈঠকে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “যেমন পদোন্নতির কিছু ব্যাপার আছে, নির্বাচন কর্মকর্তারা যারা, তাদেরকে আরও উঁচু স্তর দেওয়া, আরও সুন্দরভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা, তাদের চলাচলের জন্য গাড়ি ইত্যাদি।

“এছাড়া প্রাধিকার, সরকারের যেমন হয়, যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে সকল নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তাদের জন্য বাড়ি-ঘর দেওয়া, জাজরা (বিচারকরা) যা পেয়ে থাকেন; এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।”

সরকারের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

এইচ টি ইমাম বলেন, “আমার মনে হয়, এসব করা উচিত, সরকারের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু আছে। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বাজেট আছে।

“আমি প্রস্তাব দেবো, তাদের বাজেটের মধ্যে যদি এগুলো নিজেরা করে নেয়, তাহলে জাতীয় বাজেটে আমরা সমর্থন দিলেই কমিশন এমনিই পেয়ে যাবে। খুঁটিনাটি পরে বলব।”

নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনের মতো এত বড় আকারের নির্বাচন বাংলাদেশে কখনও হয়নি। এতো বিশাল সংখ্যক মানুষকে একত্র করে সমন্বয়, যেটা এবারকার মতো এত সুন্দর সমন্বয় আর কখনও হয়নি। এটিই আমাদের সবচেয়ে গর্বের বিষয়।”

সরকারের পক্ষ থেকে সাংবিধানিকভাবে যা যা দায়িত্ব পালন করার ছিল, কমিশনকে সহায়তা করতে তা তা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে প্রাণহানির বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, “বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষ। এমনিতেই ঝগড়া-ঝাটি লেগে থাকে। ব্যক্তিগত রেষারেষি, জমি নিয়ে, নারীঘটিত, টাকা-পয়সা এগুলো তো হয়ই, নির্বাচনের দিন কি এগুলো বন্ধ ছিল? এগুলো যোগ করেই হয়ত এ সংখ্যাটা এসেছে।”

“এবারের সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপারটি হল পুলিশ বাহিনী কিংবা অন্যান্য কোনো বাহিনীর কেউ আহত হননি। কারও উপর কোনো আঘাত আসেনি। নিহত তো দূরের কথা। আমরা আগের চাইতে অনেক বেশি পরিপক্ক, অনেক ম্যাচ্যুউরড হয়েছি,” বলেন তিনি।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মসিউর রহমান, হাছান মাহমুদ, আক্তারুজ্জামান, এবিএম রিয়াজুল কবির কাওসার, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, সেলিম মাহমুদ প্রমুখ।

SHARE