স্বপন ভট্টাচার্য্যকে প্রতিমন্ত্রী করায় মণিরামপুরে আনন্দের জোয়ার

স্বপন ভট্টাচার্য্য

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি॥ সত্যিই যে চাঁদ কপাল নিয়েই জন্ম নিয়েছেন তিনি। তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন যশোর-৫, মণিরামপুর আসনের নবনির্বাচিত এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্য। নতুন মন্ত্রীসভার তালিকায় তার নাম অন্তর্র্ভুক্ত হওয়ায় তা আরেকবার প্রতিফলিত হলো। রোববার বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্বপন্ ভট্টাচার্য্য মন্ত্রী হচ্ছেন-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে। দুপুরের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব নতুন মন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন সেই তালিকায় স্বপন ভট্টাচার্য্য’র নাম থাকায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ এই সংসদীয় আসনের আম জনতার মাঝে উৎফুল্লতা দেখা যায়। পরে নতুন মন্ত্রীসভার নামের তালিকায় তার নাম বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের নেমে আসে আনন্দের জোয়ার।
উপজেলার আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, স্বপন ভট্টাচার্য্য’র মন্ত্রী হওয়ার খবরে শুধু আওয়ামী লীগ পরিবার না, এই সংসদীয় আসনের সর্বস্তরের মানুষ এখন আনন্দে ভাসছে। একই সাথে তাকে মন্ত্রী করায় আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আ’লীগের এই নেতা।
মণিরামপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অরুণ কুমার নন্দন বলেন, তিনি এখন শুধু মণিরামপুরের নন, তারপরও এই সংসদীয় আসনের সর্ব পর্যায়ে চলমান উন্নয়ন আরো বেগমান করবেন বলে সকলের প্রত্যাশা।
মণিরামপুর ঢফাকুরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ তাপস কুমার কুন্ডু বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘গ্রাম হবে শহর’ এর বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ থেকে তিনিই প্রথম মন্ত্রী সভায় ঠাঁই পেতে চলেছেন। আর দীর্ঘ ৩১ বছর পর মণিরামপুর থেকে স্বপন ভট্টাচার্য্য এলজিআরডি (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আজ সোমবার শপথ নিতে চলেছেন স্বপন ভট্টাচার্য্য। এনিয়ে যশোর-৫, মণিরামপুর আসন থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বপন ভট্টাচার্য্য। এরআগে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শাসনামলে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান বর্তমান বিএনপি’র শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। তিনি সদ্য সমাপ্ত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে চরম ভরাডুবি হয় তার।
১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পাড়ালা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। বাবা মৃত সুধীর ভট্টাচার্য্য ও মা মৃত ঊষা রানী ভট্টাচার্য্য’র ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে মেঝ ছেলে স্বপন ভট্টাচার্য্য ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে সক্রিয় হন। তার বড় ভাই পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য। প্রয়াত সেজ ভাই মুক্তিযোদ্ধা অরুণ কুমার ভট্টাচার্য উচ্চ আদালতে প্র্যাকটিস করতেন। ছোট ভাই করুণ ভট্টাচার্য্য ব্যবসায়ী। বোন ও বোন জামাইরাও প্রতিষ্ঠিত।
স্বপন ভট্টাচার্য্য রাজনৈতিক জীবনে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাজিমাত করেছেন।
প্রথমে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে উপজেলাবাসির কাছে নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরুপ শ্রেষ্ঠ উপজেলা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। যে কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের বৃহৎ অংশসহ সাধারণ মানুষ আশায় বুক বেঁধে ছিলেন তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন। সেবার দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এক পর্যায় দলের বৃহৎ অংশসহ সর্বস্তরের জনতা তাকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার জন্য প্রার্থী করেন। নির্বাচনে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান তিনি। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ আজ (সোমবার) শপথ নিতে যাওয়া মন্ত্রীসভার তালিকায় স্বপন ভট্টাচার্য্য’র নাম অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় আরো একবার প্রতিফলিত হলো সত্যিই তিনি চাঁদ কপাল নিয়েই জন্ম নিয়েছেন।

SHARE