যশোরে সাংবাদিক অশোক সেন ও ডা. কাজী রবিউল হকের স্মরণ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ‘অশোক সেন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতেন। তিনি ছিলেন নির্লোভ-নিমোহ। আর্থিক অভাব থাকলেও তিনি অসৎ পন্থায় টাকা উপার্জন করেননি। সাংবাদিকতা জীবনে অন্যায়ের কাছে তিনি মাথা নত করেননি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও তিনি সনদপত্র নেননি। তার দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করলে তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে।’
প্রথম আলোর যশোর অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক অশোক সেনের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গতকাল রোববার বিকালে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ে অশোক সেন স্মরণানুষ্ঠান করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে যশোরের প্রগতিশীল রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. কাজী রবিউল হককেও স্মরণ করা হয়।
প্রগতিশীল এই দুই ব্যক্তিত্বের আত্মার শান্তি কামনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিবারতা পালন করা হয়। এর আগে প্রয়াত অশোক সেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুরধুনী সংগীত নিকেতনের সভাপতি হারুন-অর-রশীদ, ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, প্রেসক্লাব যশোরের যুগ্ম সম্পাদক এইচআর তুহিন, প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম ও মাসুদ আলম, যশোর বন্ধুসভার সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন।
২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি অশোক সেন দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আর গত শনিবার লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ডা. কাজী রবিউল হক মারা যান।
বক্তরা বলেন, ‘কাজী রবিউল হক আর অশোক সেনের কর্মজীবন এক সূতায় গাঁথা। রবিউল হক ছিলেন অশোক সেনেন গুরু। স্থানীয় রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অশোক সেন হেঁটেছের রবিউল হকের দেখানো পথে। যশোরের বাম রাজনীতির বিকাশ ও শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চায় এই দুইজনের অবদান অনেক। নতুন প্রজন্ম তাদের আদর্শ অনুসরণ করলেই তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে।’

শেয়ার