যশোরের ব্যবসায়ী সাফার খুনিদের সনাক্ত করতে তদন্তে ডিবি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম সাফা খুনিদের সনাক্ত করতে এবার মাঠে নেমেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার এক সপ্তাহে থানা পুলিশ হত্যার কারণ ও খুনিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় গেল শনিবার ডিবি পুলিশের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের মুজিব সড়কের ঈদগাহ মাঠের পাশেই দুর্বৃত্তরা সাফাকে ছুরিকাঘাতে খুন করে।
সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলের ধান্যখোলা গ্রামের নবিছ উদ্দিনের ছেলে মহিদুল ইসলাম সাফা। যশোর শহরের এনএইচ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি মটর পার্টসের ব্যবসা করতেন তিনি। গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কম্পোজ করার জন্য দোকানের ম্যানেজার মোতালেব হোসেন টুটুলকে নিয়ে মুজিব সড়কের ঈদগাহ মাঠের পূর্ব পাশে মাসুদ কম্পিউটারে যান। মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌছানো মাত্র পিছন দিক থেকে অজ্ঞাতনামা দুই দুর্বৃত্ত এসে গলায় ছুরি দিয়ে পোচ মেরে দৌড়ে চলে যায়। পরে তার ম্যানেজার টুটুল ও কম্পিউটার দোকান্দার মাসুদ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় নিহতের ভাই জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার দিনে সাফা হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে তার দোকানের ম্যানেজার টুটুল ও আরেক কর্মচারি এবং কম্পিউটারের দোকান্দার মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর গত শনিবার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের এসআই শামিম হোসেন মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এব্যাপারে এসআই শামিম হোসেন জানিয়েছেন, মাত্র মামলাটি হাতে পেয়েছি। নথিপত্র দেখছি পর্যালোচনা করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই এ মামলার একটি ভাল ফলাফল পাবেন।
এদিকে ইতিপূর্বে আটক তিনজনের কেউ এ হত্যাকা-ে জড়িত নাকি বাইরের কেউ সে বিষয়ে নানা গুজব উঠছে চারিদিকে। কারো কারো ধারণা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোন লেনদেন নিয়ে কর্মচারীদের সাথে বিরোধে সাফা খুন হতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলছেন বাইরে কারো কাছে পাওনা টাকা নিয়েও বিরোধ থাকতে পারে।
এব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, মামলাটি হাতে পাওয়ার পর বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেছেন, অচিরেই এ মামলার ভাল সংবাদ পাবেন।

শেয়ার