প্রশিক্ষিত ধাত্রী সেবায় যশোরে বাড়ছে স্বাভাবিক প্রসব

সালমান হাসান: নিরাপদে নরমাল ডেলিভারি করাতে যশোরের সাতটি উপজেলায় কাজ করছেন ২৮ জন মিডওয়াইফ (ধাত্রী)। যাদের দায়িত্ব¡ গর্ভাবস্থা থেকে প্রসব পরবর্তী সময় পর্যন্ত প্রসূতির নিবিড় পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধায়ন। উদ্দেশ্য প্রসূতির নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করা। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে যশোরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ শুরু করেন এসব মিডওয়াইফরা। এরপর থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় বাড়ছে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানও সেটিই বলছে।
মিউওয়াইফ হলেন একজন প্রশিক্ষিত ধাত্রী। যিনি প্রসূতি ও শিশুকে নিবিড়ভাবে সেবা দেন। মা ও শিশুর সেবা ছাড়াও নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, নারী ও শিশুর পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করেন। সব মিলিয়ে মিডওয়াইফ হলেন গর্ভবতী মায়ের সবচেয়ে নিকটতম একজন বন্ধু-বলছিলেন জেলা পাবলিক হেলথ নার্স চায়না খাঁ।
তিনি জানান, একজন প্রসূতির যাবতীয় সেবা দেন মিডওয়াইফরা। নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করতে মায়ের গর্ভাবস্থা থেকে ডেলিভারি পরবর্তী চার সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। মিডওয়াইফরা প্রসূতিকে প্রসবের আগে থেকেই পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং প্রতিনিয়ত রিপোর্ট করে থাকেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে নরমাল বা সিজারিয়ান ডেলিভারি করানো হয়ে থাকে। মিডওয়াইফরা কাজ শুরুর পর থেকে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি আরো জানান।
যশোরের সিভিল সার্জন অফিস থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, মিডওয়াইফ নিয়োগের পর থেকে জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতিদের মধ্যে স্বাভাবিক স্বাভাবিক প্রসবের পরিমাণ তুলনামুলক বেড়েছে। গত বছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসে যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, অভয়নগর, বাঘারপাড়া, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ১৪৯৫ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তার জন্মদান করেছেন। পক্ষান্তরে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৭৪২ জন প্রসূতির সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায় জানান, যশোরের সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন করে মিডওয়াইফ নিয়োগ পেয়েছেন। যাদের নিরলস চেষ্টার কারণে সেখানে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা। এসব মিডওয়াইফরা অত্যন্ত যতেœর সাথে প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসব করাচ্ছেন। এতে করে স্বাভাবিক প্রসব যেমন বাড়ছে তেমনি কমে আসছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর সংখ্যা।