আকার বাড়ছে মন্ত্রিসভার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে। সোমবার (০৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্গভবনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেবে। তবে নতুন এই মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা। পুরানদের কে বাদ পড়ছেন, নতুন হিসেবে কারা আসছেন এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে এবারের মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিগত মন্ত্রিসভার তুলনায় এবারের মন্ত্রী পরিষদের আকার বাড়তে পারে। এবারের মন্ত্রিসভা ৫৭ সদস্যের হতে পারে। বাদ পড়তে পারেন প্রভাবশালী মন্ত্রীও। বর্তমান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বাদ পড়তে পারেন। আর কয়েকজন মন্ত্রী আগের মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন, তবে অনেকেরই মন্ত্রণালয় পরিবর্তন হতে পারে। আর ‘টেকনোক্র্যাট’ হিসেবে মন্ত্রী সভায় আসতে পারে তিনজন। সোমববার প্রথমদিনে অর্ধশতাধিক মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র।

  • বঙ্গভবনে আগামীকাল শপথ গ্রহণ
  • ৫৭ সদস্য নিয়ে পরিষদ হতে পারে
  • বাদ পড়তে পারেন প্রভাবশালীও

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। তখন শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে কয়েকদফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
এবারের মন্ত্রিসভা ৫৭ সদস্যের হচ্ছে, এমন তথ্যের সত্যতা জানতে চাইলে মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, “এখনও ঠিক নেই। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। চূড়ান্ত হলে আপনাদের জানাতে পারব।”
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়লে আহমেদ বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যেই সিদ্ধান্ত নেবেন সেটিই সবার সিদ্ধান্ত। আমাকে দায়িত্ব দিলে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, যতদিন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে ছিলাম যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিলে গণমাধ্যমের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। তবে মন্ত্রিসভার গঠন তো প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেভাবেই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাননি ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। মন্ত্রিসভায়ও থাকছেন না তারা। এছাড়াও বিগত মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মন্ত্রী মাহমুদ এবং মুজিবুল হক চুন্নু ও মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন। কিন্তু এইচ এম এরশাদের ঘোষণা অনুযায়ী, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসবে, এবার তাঁর দলের কেউ মন্ত্রিত্ব নেবেন না। তাই এই তিন মন্ত্রীও মন্ত্রী সভায় থাকছেন না। ফলে এসব মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিসভা কত সদস্য বিশিষ্ট হচ্ছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কেবিনেট সেক্রেটারি স্যার (মোহাম্মদ শফিউল আলম) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছেন। তিনি আসলে হয়তো আরও একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তবে বিগত সময়ে যাদের ব্যাপারে বিতর্ক বেশি ছিল তারা অন্তত এবার মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন না বলে জানান মন্ত্রিপরিষদের এ কর্মকর্তা। তবে বিতর্কিতদের দফতরে অধিকাংশই নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আভাস দেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদের আরেক কর্মকর্তা বলেন, আমরা গতকালও রাত নয়টা পর্যন্ত অফিস করেছি। আমরা সবকিছু ঠিকঠাক করে প্রয়োজনীয় পেপার্স তৈরি করছি। শূন্যস্থান পূরণের মতো করে সবকিছু ঠিক করে রাখছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা পেলেই আমরা জাস্ট বসিয়ে দেবো। আমরা সবকিছু ঠিক করে রাখছি। এদিকে শপথ অনুষ্ঠানের পর নতুন মন্ত্রিপরিষদের সভার বিষয়েও আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এ নিয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রীদের গাড়ি প্রস্তুত রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পর্যাপ্ত গাড়ি রেডি রাখছি। যতটা দরকার হয় সেই পরিমান গাড়ি যাতে দেওয়া যায়। তবে সংখ্যার বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে শনিবার সরকারি ছুটি থাকলেও সকাল থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অধিকাংশ কর্মকর্তাদের অফিস করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যতা দেখা যায়। জানা যায় শুক্রবারও অধিকাংশ কর্মকর্তা অফিস করেছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে শপথ নেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারই যোগাযোগ করে আমন্ত্রণ জানাবেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব নাজমুল হক সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি টিম বঙ্গভবনে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের ব্যবস্থাপনার তদারকি করতেই তারা বঙ্গভবনের গেছেন।

শেয়ার