যশোরে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে মা ও ভাইকে মারপিটের অভিযোগ

স্কুলছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে মা ও ভাইকে মারপিটের ঘটনায় হালিমা খাতুন (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার সদর উপজেলার আবাদ কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পাশে উত্ত্যক্তের ঘটনার পর সোমবার সকালে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
এব্যাপারে মৃত হালিমার ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে ৭ জনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলো, আবাদ কচুয়া গ্রামের খালপাড়ার বারেক মিয়ার ছেলে ইউসুফ আলী, হাফিজুর রহমান হাফিজের ছেলে নিরব ও জীবন, ফরিদ ড্রাইভারের ছেলে সুমন, খোকনের ছেলে রাশেদ, একই গ্রামের আশিক ও শান্ত।
বাদী আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার বোন হালিমা খাতুন রামনগরের দারুস ছুন্নাত মোজাদ্দেদীয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গত ৩০ ডিসেম্বর রোববার তিনি তার মা হাজেরা বেগম জাতীয় নির্বাচনে আবাদ কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার জন্য যান। এসময় ছোট বোন হালিমা খাতুন সাথে ছিল। ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এলাকার হাবিবুর রহমানের বাড়ির পাশে তিন রাস্তার মোড়ে পৌছানোর পর আসামিরা তার বোনকে উত্ত্যক্ত করে। এক পর্যায়ে তারা অপহরণের উদ্দেশ্যে হালিমার হাত ধরে টানাটানি করে। এসময় আব্দুল্লাহ ও তার মা বাধা দিলে আসামিরা তাদেরকে মারপিট করে। পরে তাদের চিৎকারে ভোট কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকার বখাটেরা পালিয়ে চলে যায়। বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বিদ্যুৎ। কিন্তু অভিযুক্ত কয়েকজন ওই ইউপি সদস্যের নিকটজন হওয়ায় বিলম্ব করতে থাকেন। এরই মধ্যে নিজেকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় অপমানবোধ করে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে হালিমা। তবে আত্মহত্যার সময় হালিমার মা হাজেরা বেগম বাড়িতে ছিলেন না।
এদিকে হালিমার আত্মহত্যার খবর পেয়ে বিদ্যুৎ মেম্বর বিষয়টি দেখছেন বলে আবারো সময় ক্ষেপন করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় ক্ষেপনের পর হালিমার ভাই আব্দুল্লাহ নিজেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেছেন, একটা ছেলের সাথে হালিমার সম্পর্ক ছিল। তার সাথে কথা বলার মধ্যে হালিমার ভাইয়ের হাতাহাতি হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, হালিমাকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার