বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে যশোরে ভোট গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিচ্ছিন্ন হামলা ও বিরোধী প্রার্থীদের অভিযোগের মধ্যে দিয়ে যশোরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বড় ধরণের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। যশোরের ৬টি আসনে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আর দুপুরের পর ৪টি আসনের ৬ প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে জানিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
সকাল ১০টা। যশোর সরকারি এমএম কলেজে নারী ও পুরুষ দুই বুথেই দীর্ঘ লাইন। শীতের তীব্রতা জয় করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় আছেন তারা। কেন্দ্রটির পুরুষ বুথের প্রিজাইডিং অফিসার সুশান্ত কুমার জানান, তার বুথে দুই হাজার ৯৯৫ জন ভোট দেবেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশের মতো ভোট পড়ে। ভোট গ্রহণের শুরুতে হাতে গোনা কয়েকজন ভোটার ছিলেন। তবে কিছু সময় পরই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন হয়ে যায়। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করছেন তারা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায় নারী-পুুরুষ দুই বুথেই দীর্ঘ লাইন। এসময় বিথীকা দত্ত নামে এক ভোটার বলেন, এখানে কোন ঝামেলা নেই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছি। তবে অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বুথ বেশি হলে ভাল হতো।
এখানকার এক প্রিজাইডিং অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, এই কেন্দ্রে দুইটি বুথ। আমি নারী ভোটারদের বুথের দায়িত্বে আছি। এখানে নারী ভোটার আছেন দুই হাজার ৪৯৬ জন। যাদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত (সাড়ে ১১টা) প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে কেন্দ্রের বাইরে সামান্য সমস্যা তৈরি হয়েছিলো। এজন্য কিছু সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিলো। এজন্য ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হয়ে যায়।
শুধুমাত্র সরকারি এমএম কলেজ বা এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজ নয়, যশোর সরকারি সিটি কলেজ, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলিয়া আমিনিয়া মাদ্রাসাসহ যশোর-৩ আসনের ১৭২টি কেন্দ্রের বেশিরভাগেই স্বাভাবিক পরিবেশে ভোট দেন ভোটাররা। এসব কেন্দ্রের সামনে বসে অস্থায়ী দোকান। নারী ভোটারদের সাথে আসা শিশুদের টার্গেট করে সাজিয়ে রাখা হয় বিভিন্ন খাবার ও খেলনা।
তবে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নির্বাচনের বেশ কিছু অনিয়ম তুলে ধরেন। তার দাবি, ভোটের আগের দিন রাতে অন্তত ৫৮টি কেন্দ্রে ভোট কেটে বাক্স ভর্তি করে আওয়ামী লীগ। আর ভোটের দিন তার নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। ধানের শীষের চেনা ভোটারদের রাস্তা থেকেই ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর বুথের মধ্যে ভোটারদের প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় পোলিং এজেন্ট।
এছাড়া, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রাম থেকে তুহিন ও মঈন নামে দুই যুবককে অস্ত্রসহ আটক করে বিজিবি। আর ১২টার দিকে শহরের বারান্দিপাড়া ফুলতলা থেকে জাকির নামে আরো এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই শারমিন।
সকাল ৯টার দিকে যশোর নতুন উপশহর বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ওহেদুজ্জামান আজাদের সাথে। তিনি বলেন, অফিস থাকায় তাড়াতাড়ি ভোট দিতে এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।
দেখা যায়, কেন্দ্রের সামনে মাহিলা ও পুরুষদের দুইটি করে চারটি লাইন। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশসহ নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান করছেন। একই পরিবেশ দেখা যায় উপশহর ডি-ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপশহর ই-ব্লক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সকাল ১০টার দিকে বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পঞ্চাশোর্ধ মতিয়ার রহমান জানান, কেন্দ্র শান্তিপূর্ণ থাকায় নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে এসেছি। কেউ বাধা দেয়নি।
যশোর-৩ আসনে মোট ছয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত কাজী নাবিল আহমেদের প্রতীক নৌকা, বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতীক ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলমের প্রতীক লাঙ্গল, জাকের পার্টির মনিরুজ্জামান মনিরের প্রতীক গোলাপ ফুল, বিকল্পধারার মারুফ হাসান কাজলের কুলা এবং জেএসডির বিপ্লব আজাদের প্রতীক ছিলো তারা। এসব প্রার্থীর মধ্যে থেকে যশোর সদর উপজেলার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৩৪০ জন ভোটার আগামী পাঁচ বছরের জন্য কাজী নাবিল আহমেদকে তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।

শেয়ার