বিএনপির ঘোষণায় ভোট থেকে সরবেন না: শেখ হাসিনা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মাঝপথে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও সব দলের প্রার্থীদের নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের ‘বিজয় নিশ্চিত জেনে’ কেউ যেন কোনোভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সেদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভোটের প্রচারের মধ্যে ‘বিএনপি-জামায়াতের’ হামলায় আহত দিনাজপুর আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মাহবুবুর রহমানকে দেখতে ভোটের আগের দিন শনিবার ঢাকা সিএমএইচে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আমি সতর্ক করতে চাচ্ছি। ওদের (বিএনপি-জামায়াত) একটা চরিত্র আছে ওইরকম, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বলবে, ‘আমরা নির্বাচন করব না। আমরা প্রত্যাহার করে নিলাম’।
“সেই সাথে আমি বলব, যারা প্রার্থী, অন্যান্য দলের এবং আমাদের যারা প্রার্থী আছেন, তাদের নির্বাচনটা কিন্তু সম্পূর্ণ চালিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে যারা আমাদের প্রতিনিধি থাকবেন বা এজেন্ট থাকবেন, তাদেরকে থাকতে হবে একদম রেজাল্ট নিয়ে না আসা পযন্ত।”
আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “বিএনপি যদি মাঝপথে বলেও যে, ‘আমরা প্রত্যাহার করলাম বা (নির্বাচন) করব না’, একথা বিশ্বাস না করার জন্য আমি বলব। কারণ এটাও তাদের একটা অন্য খেলা।
“সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করাৃ আমরা ক্ষমতায়, তারপরও আমার দলের এতগুলো মানুষ তারা হত্যা করেছে।”
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সাড়ে চারশর ওপর নেতাকর্মী আহত। এখন ওরা চোরাগোপ্তা হামলা করছে। জানি না, তারা আমাদের বিরুদ্ধে সারাদেশব্যাপী নালিশও করে বেড়াচ্ছে, আবার উল্টোদিকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরে আঘাতও করছে।”
তারপরও প্রত্যেককে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি জানি যে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে। সেটা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারছি মানুষের ভেতরের যে আকাঙ্ক্ষা। কাজেই কোনোমতেই যেন এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের যারা দলের বা জোটের নেতাকর্মী আছেন বা প্রার্থী আছেন সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে হবে।”
নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ তৈরি হয়নি- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “লেভেল করা মানে তাদের এমন একটা অবস্থা করে দেওয়া হোক, অতীতে তাদের যেটা অভ্যাস ছিল একেবারে জিতিয়ে দিতে হবে। ফলে এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। কিন্তু প্রতিযোগিতা করে যে জিততে হবে এটা তাদের মধ্যে নাই।”
বিএনপির বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের সমস্যা তারাই সৃষ্টি করেছে। একেকটা নির্বাচনী এলাকায় চারজন/পাঁচজন করে তারা মনোনয়ন দেয়। এরপর সেটা ট্রেড করে, অনেকটা বলতে গেলে অকশনে দেয়। কে কত বেশি টাকা দেবে সে প্রার্থী হতে পারবে।
“তারা এই নির্বাচন বাণিজ্যটা করে। এই বাণিজ্য করার ফলে তাদের অনেক ভালো ভালো ক্যান্ডিডেট এবং পুরনো যারাৃ মানে এলাকায় যাদের ভাল যোগ্যতা আছে তারা অনেকেই নমিনেশন পায়নি। যার ফলে তারা নিজেরাই ক্ষুব্ধ হয়।”
শেখ হাসিনা বলেন, “এই চার/পাঁচজন যে দিয়েছিল, হয়তো একজন পেয়েছে, বাকি কয়জন ক্ষেপে আছে। সংঘাতটা তাদের নিজেদের ভেতরে। কারণ যারা পায়নি তারা যে পেয়েছে তাকে এলাকায় যেতে দেবে না। তারাই মারপিট করে, তারাই তাদের অফিসে আগুন দেয়। কিন্তু তারা সবসময় দোষটা আমাদের ওপর ফেলে। মানে উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে দেয়া- এটা তাদের একটা অভ্যাস। এই করে তারা পানি ঘোলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, অনেক সংগ্রাম করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা উন্নয়নের জন্য ‘একান্তভাবে’ দরকার।
“বাংলাদেশে সব জায়গায় দেখলেই বোঝা যাবে গত ১০ বছরে কত পরিবর্তন হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ আরও উন্নত সম্মৃদ্ধ হবে।”
রোববার শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “কালকে নির্বাচন। আমি চাই, একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। একটা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক, সেটাই আমাদের কাম্য।
“একটা কথা আমি জনগণকে বলব, আগামীকালকের নির্বাচনটা যদি শান্তিপূর্ণভাবে করে ফেলতে পারি এবং এই নির্বাচনের পর এইটুকু কথা দিতে পারি যে, বাংলাদেশে আরো বেশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো মজবুত হবে। আমরা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব। উন্নত-সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব।”
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে জাতির জনকের কন্যা বলেন, “আমার কথা আমি এটুকু বলতে পারি জনগণ যদি ভোট দেয় আছি, আর না দিলে নাই। এটা সম্পূর্ণ জনগণের ওপর আমি ছেড়ে দিচ্ছি।”
শেখ হাসিনা দিনাজপুর আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ-খবর নেন।

শেয়ার