‘যুক্তরাষ্ট্রের হাত ইয়েমেনের মানুষের রক্তে রঞ্জিত’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ২০১৫ সালের মার্চ থেকে গৃহযুদ্ধে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেন। দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে না খেয়ে মরছে অসংখ্য মানুষ। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, গত তিন বছরে দেশটিতে অপুষ্টিতে ভুগে প্রায় ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ইয়েমেনের নিরীহ এসব মানুষকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস।
স্বনামধন্য এই দৈনিকটি তাদের এক নিবন্ধে ইয়েমেনের এমন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রকে। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবের কাছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র বিক্রি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অস্ত্র সৌদি কোথায় কিভাবে ব্যবহার করেছ এটা তাদের জানা। তবুও তারা নিয়মিত ইয়েমেনে চালানো গণহত্যায় অস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে আসছে। আর এটা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, এর পেছনে সরাসরি হাত আছে যুক্তরাষ্ট্রের।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই নিবন্ধে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালানো সৌদির পক্ষে সম্ভব নয়। মার্কিন সরকার কয়েক দশক ধরে সমরাস্ত্র বিক্রির জন্য সম্পদশালী কোনো দেশকে বেছে নিচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ইয়েমেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সৌদি আরবের চালানো গণহত্যা যুক্তরাষ্ট্রের সে নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ভাষ্যমতে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালানোর ক্ষেত্রে বেসামরিক ও সামরিক এলাকাকে গুলিয়ে ফেলছে। তারা স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে বোমা হামলা চালাচ্ছে।

মার্কিন সামরিক সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। এই ভয়াবহ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ হাজার ইয়েমেনি নিহত ও লাখ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছেন।

শেয়ার