কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জিপিএ-৫প্রাপ্ত ৪০ জনই এক বিষয়ে পেয়েছে অনেক কম নাম্বার, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার শিক্ষা সমাপনীতে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ অর্জন করলেও অভিভাবকরা উদ্বেগে রয়েছেন বৃত্তির ফলাফল নিয়ে। কেননা, তাঁদের মতে, ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে এই ৪০ জনই কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ নাম্বার কম পেয়েছে। এই পরীক্ষার্থীরা অপর ৫ বিষয়ে গড় ৯০-৯৫ নাম্বারের উপরে পেলেও সুনির্দিষ্ট একটি বিষয়ে এতো কম নাম্বার পাওয়ার পিছনে অশুভ সংকেত রয়েছে মনে করছেন অভিভাবকরা। একই উপজেলার শিক্ষকরা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করায় এই বিরূপ পরিস্থিতি হতে পারে বলে তাঁরা জানান। তাঁরা মঙ্গলবার স্কুলে এসে তাদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা শিক্ষকমন্ডলীর সাথে ব্যক্ত করেন। এই স্কুলের ধারাবাহিক সাফল্যের বিরূপ প্রভাব ফেলার নেতিবাচক মনোভাব থেকে এমন করা হতে পারে বলে তাদের দাবি। অভিভাবকরা মেধাবী এই পরীক্ষার্থীদের ওই খাতা পুন: মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ১৫৪ জন পরীক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। এরা ৫ বিষয়ের প্রতিটিতে প্রায় একশ’র কাছাকাছি নাম্বার পেলেও ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে ১০ থেকে ১৫ নাম্বার কম দেয়া হয়েছে। অভিভাবক প্রভাষক আলকামুন, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান, শিক্ষক আমিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, তাঁদের সন্তানেরা সবচেয়ে ভালো লিখেছে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে। অথচ সেই বিষয়ে এতো কম নাম্বার হওয়াটা মেনে নেয়া যায় না। তারা বলছেন, এটি অশুভ কোনো মনোভাব থেকে করা হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, তাদের সন্তানেরা ৫ম শ্রেণির কোনো পরীক্ষায় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে এতো কম নাম্বার পায়নি। তারা প্রত্যেকেই ৯৮-৯৯ নাম্বার পাওয়ার যোগ্য রাখে। এরফলে ট্যালেন্টপুলের বৃত্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। বিষযটি নিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন জানান, এই ¯ু‹ল উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বে শীর্ষে রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে। ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ে এতো কম নাম্বার পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তিনিও এই নাম্বার কম পাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি। কী এর কারণ তা অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে বলে তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেন। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোজাফ্ফর উদ্দিন সেলফোনে জানান, তিনি বিষয়টি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছ থেকে শুনেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান। সূত্র আরও জানায়, ২০১৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে এ বিদ্যালয় থেকে ৩৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। বৃত্তি পায় ২৯ জন। এরমধ্যে ট্যালেন্টপুল লাভ করে ২০ জন। যা ছিলো শ্রেষ্ঠত্বে উপজেলা শীর্ষ।

শেয়ার