চোরাই কাপড়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব অভয়নগরে হৃদয়কে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চোরাই কাপড়ের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে যশোরের অভয়নগরে আবিদ হাসান হৃদয়কে হত্যা করা হয়। এমনই কথা স্বীকার করে এ মামলা আসামি রাকিবুল ইসলাম রাব্বি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী তার জবানবন্দি শেষে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার সাজু ভুইয়া নামে এক আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রাকিবুল ইসলাম রাব্বি একই উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
রাব্বি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে, শাকিল, সাজু, হৃদয় ও মিলন এক সাথে কয়েকদিন আগে নওয়াপাড়া ইন্সটিটিউট মাঠ থেকে এক গাট পুরনো কাপড় চুরি করে। ওই কাপড় তারা ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে। কিন্তু সম্পূর্ণ টাকা হৃদয়ের কাছেই ছিল। ঘটনার দিন ৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৭টার সময় তারা নওয়াপাড়া মন্দিরের গলিতে চা সিগারেট খাওয়ার কথা বলে যায়। সেখানে টাকা ভাগাভাগির কথা ওঠে। এক পর্যায় অনেক কষ্ট হয়েছে বলে বিক্রিত টাকা থেকে হৃদয় একাই ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু তাকে বেশি টাকা কেউ দিতে রাজি নয়। ফলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ধাক্কাধাক্কি হয়। এরই মধ্যে শাকিল নামে একজন হৃদয়কে ধাক্কা দিয়ে নিচেয় ফেলে দেয়। রাব্বির গলায় থাকা মাফলার হৃদয়ের গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এরপর হৃদয়ের বুকের উপর দুইজন চেপে ধরে রাখে। হৃদয়ের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে লাশটি ভৈরব নদীর মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। আর তার আগে হৃদয়ের পকেটে থাকা সেই কাপড় বিক্রির ১৬ হাজার টাকা নিয়ে সবাই সমানভাবে ভাগ করে নেয়।
এদিকে গত ৮ ডিসেম্বর সকালে অভয়নগরের ভাঙ্গাগেটে ভৈরব নদী থেকে স্থানীয়রা একটি লাশ দেখে থানা পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর থানা থেকে পরিবারের লোকেরা হৃদয়ের বলে সনাক্ত করে। এরপর এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের বোন আবিনুর সুলতানা বাদী হয়ে ওই দিনই অভয়নগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার