শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর আল বদর আল সামস রাজাকাররা তাকে ঢাকার চামেলীবাগের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে প্রথম হত্যার শিকার হন সিরাজুদ্দীন হোসেন।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার মাগুরার শালিখা উপজেলার শরুশুনা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বাদ আসর ঈদগাহ ময়দানে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
যশোরের বাঘারপাড়ার খাজুরায় সরকারি শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন মহাবিদ্যালয়ে বেলা ১১ টায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসভবনেও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে শুভানুধ্যায়ীদের আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে যোগদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক। ব্রিটিশ আমলের শেষভাগ থেকে শুরু করে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত ব্যাপ্ত হয়। এই পুরো সময়কালে দেশের সকল আন্দোলনের সঙ্গে ছিল তার সরাসরি যোগাযোগ। তিনি তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে এ দেশের বঞ্চিত মানুষের কথা অসাধারণ দক্ষতায় সংবাদপত্রের পাতায় ফুটিয়ে তুলতেন।
১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ এই দেশে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে গেছেন। সে সময় তার লেখা ঠগ বাজিতে গাঁ উজাড়, অধুনা রাজনীতির কয়েকটি অধ্যায় ধরনের উপসম্পাদকীয় এবং এতদিনে শিরোনামে সম্পাদকীয় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের সাক্ষ্য দেয়। তিনি প্রবাসী সরকারের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের আমেরিকান কনসুলেটের গোপন রিপোর্টটি পাঠিয়েছিলেন, যা পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বার বার প্রচারিত হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
১৯৫২ সালে দৈনিক আজাদের বার্তা সম্পাদক থাকা অবস্থায় মহান ভাষা আন্দোলনের সপক্ষে তার সাংবাদিকতা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে তার অসাধারণ কীর্তি বলে পরিগণিত। শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন এ দেশে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জনক। ইত্তেফাকে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ফলে ১৯৬২ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের কুখ্যাত ছেলেধরা দল ধরা পড়ে। মুক্তি পায় ৭২ শিশু। সিরাজুদ্দীন হোসেন ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট এ্যাওয়ার্ডে (আইপিআই) মনোনয়ন লাভ করেন।
আইপিআই বুলেটিনেও তার এই সাফল্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন তৎকালীন সানডে টাইমস ও পরবর্তীতে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্স।
শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের অসাধারণ হেডিং বাঙালী জাতির রক্তে আগুন ধরিয়ে দিতো। চিনলি কেমনে, সুকুইজ্জা কডে, জয় বাংলার জয়, জনতার জয় হইয়াছে, বিক্ষুব্ধ নগরীর ভয়াল গর্জন এবং দুই পাকিস্তানের ভারসাম্যহীনতাকে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করে যে হেডিং করেছেন তা পাঠককের হৃদয়ের গভীরে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার