যশোরে মহাজোটের তিন, বিএনপি জোটের ৯ নেতার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

নির্বাচনী মাঠে ৪০ প্রার্থী

দেবু মল্লিক
আগামী ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের মনোনয়ন না পেয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও ন্যাপের তিন নেতা। এছাড়া, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি, জামায়াতের ৯ নেতা শেষ দিনে তাদের মনোনয়নপত্র তুলে নিয়েছেন। একই দিন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনিরও তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সব মিলে শেষ দিনে যশোরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে ১৩টি।
যশোর জেলা রির্টার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে এখন যশোরের ছয়টি আসনে ৪০ জন বৈধ প্রার্থী আছেন। তবে তিনটি আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ছয় জন প্রার্থী আছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর যাদের মধ্যে তিন জনের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
যশোর-১ আসনে গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির। এই আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন। বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যাওয়া ওয়ান ইলেভেনের সময় বহিস্কৃত) মফিকুল হাসান তৃপ্তি, ইসলামী আন্দোলনের বখতিয়ার রহমান এবং জাকের পর্টির সাজেদুর রহমান ডাবলু।
যশোর-২ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম। তিনি নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছিলেন। এছাড়া, মহাজোটের সমর্থন না পেয়ে এই আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (মোজাফফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট এটিএম এনামুল হক এবং ধানের শীষের দ্বৈত মনোনয়নপ্রাপ্ত জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইসহক।
তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও এই আসনে বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে আছেন নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াতের আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন, জাতীয় পার্টির বিএম সেলিম রেজা, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গণফোরামের এম আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ।
যশোর-৩ আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম এবং ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। কিন্তু এই দুই নেতাই মনোনয়ন পাননি। এজন্য তারা গতকাল শেষ দিনে নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বর্তমানে এই আসনে বৈধ প্রার্থী আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত কাজী নাবিল আহমেদ, ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম, জাকের পার্টির মনিরুজ্জামান মনির এবং জেএসডির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বিপ্লব আজাদ।
যশোর-৪ আসনে এখনো সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী রনজিত কুমার রায়, ধানের শীষের প্রার্থী বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহুরুল হক জহির, ইসলামী আন্দোলনের নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির লে. কর্নেল (অব.) এম শাব্বির আহমেদ, বিএনপির দ্বৈত মনোনয়ন পাওয়া মাইনোরোর্টি পার্টির নেতা সুকৃতি কুমার মন্ডল, বিকল্পধারার নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং জাকের পার্টির লিটন মোল্লা।
আর এখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী, অভয়নগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক টিএস আইয়ুবের স্ত্রী বিএনপির মনোনীত তানিয়া রহমান, যশোর জেলা জেএসডির সভাপতি আবদুস সালাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যারোর সদস্য ও যশোর জেলা শাখার সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ।
যশোর-৫ আসনে ৯ বৈধ প্রার্থীর মধ্যে শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামের নেতা অ্যাডভোকেট এনামুল হক তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর এখন মাঠে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নৌকার প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য, বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ধানের শীষের আরেক মনোনীত প্রার্থী মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মণিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এমএ হালিম, ইসলামী আন্দোলনের ইবাদুল হক খালাসি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান বারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন অমিত এবং জাকের পার্টির রবিউল ইসলাম।
যশোর-৬ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কেশবপুরের সাবেক পৌর মেয়র বিএনপি নেতা আবদুস সামাদ বিশ্বাস এবং জামায়াতে ইসলামের মোক্তার আলী।
২০ দলীয় জোটের দুই নেতা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির দুই কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ ও অমলেন্দু দাস অপু ভোটের মাঠে আছেন। এছাড়া আছেন নৌকার প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, ইসলামী আন্দোলনের আবু ইউসুফ বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির মাহবুব আলম এবং জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান।