মণিরামপুর বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের গণপদত্যাগ

যশোর-৫ জোটের প্রার্থী মুফতি ওয়াক্কাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে মেনে নিতে না পারায় রোববার দুপুরে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করেছেন। এর আগে এদিন সকালে প্রার্থীর ছেলে আব্দুর রশিদের গাড়ি ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
শনিবার সন্ধ্যার পর মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের চূড়ান্ত মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। দলটির নেতাকর্মীদের অনেকেই ওই রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আর বিএনপি করবেন না’এমন পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে রোববার দুপুরের পর থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়নসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে গণপদত্যাগের হিড়িক পড়ে। মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, গণবিচ্ছিন্ন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করেছেন। রোববার দুপুরে তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া উল্লেখযোগ্যরা হলেন, পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন খান, আলাউদ্দিন আলা, সাধারণ সম্পাদক এসএম মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক নিস্তার ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোতাহারুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জামান আজাদ, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন, একে আজাদ, কলেজ শাখার সভাপতি মহিবুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজির প্রমুখ।
পদত্যাগকারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম মশিউর রহমান বলেন, এ সংসদীয় আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রভাব না থাকলেও বিগত নবম এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ দলীয় জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তারপরও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত একাট্টা হয়ে তাতে বিজয়ী করে। তবে স্থানীয় জোটের সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত শীতল হওয়ায় ২০০৮ সালে তিনি ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস মনিরামপুরে ২০ দলীয় জোটের সাথে তেমন কোন সম্পর্ক রাখেননি। এ ছাড়াও বিগত ১০ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কোন খোঁজখবর নেননি মুফতি ওয়াক্কাস। এছাড়া মুফতি ওয়াক্কাসের নামে থানায় অন্তত: নাশকতার চারটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তিনি বর্তমান আত্মগোপনে রয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি কিভাবে নির্বাচন করবেন প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, এমন গণবিচ্ছিন্ন নেতার পক্ষে কোনভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব না। এ কারণে প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করছেন।
এদিকে মুফতি ওয়াক্কাসের প্রার্থীতা মেনে নিতে না পারায় রোববার সকালে মণিরামপুর সরকারি কলেজের সামনে তার ছেলের গাড়ি ভাংচুর করে বিএনপির একদল বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী। খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে চিনতে না পারায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুককে ছেড়ে দেয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।
জানতে চাইলে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের বড় ছেলে মুফতি আব্দুর রশিদ জানান, গাড়িতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান, ছোট ভাই মুফতি হুসাইনসহ সংগঠনের ৮/১০ নেতাকর্মী ছিলেন।

শেয়ার