‘মূল খুনি’ পেচো এবং খুরশিদ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি
যশোরের ছাত্রলীগ নেতা ইমন খুনে সাগর ও রমজান রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের ছাত্রলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন ইমনের সন্দেহভাজন মূল খুনি পেচো এবং খুরশিদকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অস্ত্র-গুলিসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক রেলগেটের চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাগর ও রমজানকে এ ছাত্রনেতা হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আকরাম হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সাগর ও রমজান রেলগেট পশ্চিমপাড়ার চিহ্নিত মাদক দম্পতি রেখা-ফায়েকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র মতে, যশোর শহরের বেজপাড়া আজিমাবাদ কলোনীর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে মনোয়ার হোসেন ইমন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। সামাজিক কর্মকা-ের অংশ হিসেবে মাদক উচ্ছেদ ও সন্ত্রাস দমনের তিনি ছিলেন সবসময় সরব। এতে অপরাধীরা ইমনকে খুন করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তারই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে ২৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইমন বেজপাড়া গোলগুল্লার মোড়ে অবস্থানকালে একদল সন্ত্রাসী কাছে থেকে ইমনকে গুলি করে খুন করে। এঘটনার পরদিন ইমনের পিতা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আজমল হুদা বেজপাড়া মসজিদ বাড়ি রোডের মৃত মাহমুদ মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামান লিটন ওরফে ভাংড়ি লিটন এবং একই এলাকার বুনোপাড়ার আহম্মদ আলীর ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী বোমাবাজ বুনো আসাদকে গ্রেপ্তার করেন।
এরপর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ। তিনি তদন্তকালে বারান্দীপাড়ার (রাঙ্গামাটি গ্যারেজ) অম্বিকা বসু লেনের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন ওরফে লম্বা সিপন এবং শংকরপুর সার গোডাউন এলাকার কাজী তৌহিদের ছেলে রাকিব ওরফে ভাইপো রাকিবকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার হওয়াদের কাছ থেকে ইমন হত্যার মূল কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া এ হত্যাকা-ে কারা জড়িত সেটাও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
এরই মধ্যে ২ অক্টোবর গভীর রাতে ডিবি পুলিশের এসআই আবুল খায়ের মোল্যার নেতৃত্বে সাগর ও রমজানকে আটক করা হয়। একই সাথে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। ওই মামলায় এখনও তারা কারাগারে রয়েছে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা ইমনের খুনের সাথে তারা জড়িত বলে শহরে গুঞ্জন উঠে। ফলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ তাদের দুই ভাইকে শ্যোন এরেস্ট দেখিয়ে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন আদালতে। বিচারক তাদের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শেয়ার