প্রার্থী নয়, শেখ হাসিনার মার্কা নৌকাকে জয়ী করতে হবে : শেখ হেলাল

যশোরে আ.লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। প্রাচীন এবং বৃহত্তর দল হিসেবে আমাদের আওয়ামী লীগের অনেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিটি আসনে পেয়েছেন মাত্র একজন। এনিয়ে মনোবিভেদ থাকলে চলবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাকে জয়ী করতে কাজ করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এসব কথা বলেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে নৌকা মার্কাকে জয়ী করতে শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘কে প্রার্থী হয়েছেন সেটা বড় কথা নয়। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা। তাই নেত্রীকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকাকে জয়ী করতে হবে। এবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে বাংলাদেশ থেকে বিএনপি জামায়াতকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করা হবে।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি বলেন, ‘প্রার্থী আমাদের অনেকের কাছে নাও পছন্দের হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ হাসিনা। দেশের ৬৭ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন। তাদের ভোট ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রহ করে শেখ হাসিনাকে জয়ী করতে হবে। তাহলে আগামীতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নের মার্কা নৌকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা। এই নৌকাকে পাশ করাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
বর্ধিত সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার সাথে জড়িত। এখনো তাদের সেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মতো শপথ নেওয়াতে হবে। তারপর বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের কবর রচিত হবে।’

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘প্রতিটি আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অনেক যোগ্য লোক রয়েছেন। যাদের অনেকেই জনপ্রিয়। তাদের মধ্যে বেছে একজনকে নেত্রী মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব নৌকাকে পাশ করানো। তা না হলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। আমরাও ভাল থাকবো না। তাই শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের নৌকার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন, বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একেএম খয়রাত হোসেন, আব্দুল খালেক, অ্যাডভোকেট জহুর আহম্মেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, মীর জহুরুল ইসলাম, বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী আব্দুল কাদির, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মনি, দপ্তর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিক, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. এমএ বাশার, উপ-প্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপি, কার্যকরী সদস্য আমিরুল ইসলাম রন্টু, এনামুল হক বাবুল, ইমাম হাসান লাল, এহসানুর রহমান লিটু, শাহারুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, নূর জাহান ইসলাম নীরা, নাজমুল ইসলাম কাজল, এইচ এম আমীর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, আব্দুল মান্নান মিন্নু, কাজী আলমগীর হোসেন আলম, মশিয়ার রহমান সাগর, কবিরুল আলম, সফিউদ্দীন অরুন, কাজী দেলোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান, সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার রুহুল আমীন, সহ-সভাপতি এসএম আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, সহ-সভাপতি জবেদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার জলি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, সাবেক সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্যাহ, বর্তমান সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক রবিউল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ। সভায় যশোর-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী রনজিৎ কুমার রায় এবং যশোর-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক উপস্থিত ছিলেন না।

শেয়ার