গৌরবের যশোর মুক্ত দিবসে আনন্দ শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ‘যশোর মুক্ত দিবস’ উদ্যাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দিবসটি উপলক্ষে যশোর শহরের মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রা শুরুর আগে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর নীলাকাশে ফেস্টুন-বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ জেল (কারাগার) এর ব্যাদ্যদলের বাজানো বাদ্যের তালে তালে মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে শহরে শোভাযাত্রা বের হয়। বাদক দলের বিগ ড্রাম, টেনো ড্রাম, করতাল আর ব্যাগপাইপের বাজনায় শহর মুখর করে শোভাযাত্রাটি মনিহার এলাকায় বিজয় স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন সময়ে বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মণি, উপ প্রধান ও জাসদের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, আবুল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, মোহাম্মদ আলী স্বপন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান।
এছাড়া শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা এবং বিভিন্ন বয়সের সাধারণ জনগণ অংশ নেন। উদ্বোধনের পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মুজিব সড়ক, দড়াটানা হয়ে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র সড়ক হয়ে চৌরাস্তা রবীন্দ্রনাথ সড়ক হয়ে বিজয় স্তম্ভে এসে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। এদিকে সন্ধ্যায় দিবসটি উপলক্ষে মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে চাঁদের হাট যশোর চলচ্চিত্র প্রর্দশন করে।
বাঙালি জাতির জীবনে মহিমান্বিত এক গৌরবোজ্জ্বল দিন ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর শত্রুমুক্ত হয়। সেদিনই মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মধ্যে প্রথম বিজয় সূচিত হয়। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে যশোরের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জেলাকে প্রথম শত্রুমুক্ত করে। বয়ে আনেন যশোরবাসীর জন্য বিরল এক সম্মান।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকবাহিনীর পরাজয়ে এক অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতায় যশোরের কালেক্টরেট ভবনে ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। তাই ১৯৭২ সাল থেকে প্রতিবছর যশোরবাসী বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপন করে এ দিবস।

শেয়ার