যশোরে মৃতপ্রায় টেবিল টেনিসকে জাগ্রত করার চেষ্টায় সাবেক তারকা রত্না রহমান

ইমরান হোসেন পিংকু
সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস তারকা রতœা রহমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রতœা ঢাকায় ঘরোয়া লিগে খেলেছেন ঢাকা ইয়াংয়ের হয়ে। তিনি ক্লাব কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করে খেলা বাবদ কোন পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা নেবেন না। তবে তাকে একটি টেবিল টেনিসের টেবিল দিতে হবে। তার কথা ফেলতে পারেননি ক্লাব কর্মকর্তারা। তাকে দেয়া হয় টেবিল টেনিসের টেবিল। তিনি তার জন্ম স্থান যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার জিমনেসিয়ামে এই টেবিল স্থাপন করেন। সেই সাথে কালক্রমে সদিচ্ছার অভাবে যশোরে মৃতপ্রায় টেবিল টেনিসকে জাগ্রত করার জন্য দশজনকে ফ্রি প্রশিক্ষনও দিচ্ছেন সাবেক টেবিল টেনিস তারকা রতœা রহমান।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ৯০ এর দশকে যশোরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে টেবিল টেনিস খেলাটি ছিলো বেশ জনপ্রিয়। যার কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়েছিল কংক্রিটের টেবিল। যশোরের ছেলে-মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে টেবিল টেনিসে প্রতিনিধিত্বই শুধু করেনি, দারুণ সাফল্যও অর্জন করেছে। যার ফলে দেশের গন্ডি পেরিয়ে জাতীয় দলের হয়ে দেশের বাইরেও খেলেছে যশোরের শামীম, সেলিম, অসিত, আমিনুর, তাপস, নারায়ন, পিংকু, কবির, রতœা রহমান শিমু, বিনু, শামীমাসহ অনেকে।
জানা যায়, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত রমরমা অবস্থায় ছিলো টেবিল টেনিস খেলাটি। এরপর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ক্রমান্বয়ে ভাটা পড়তে শুরু করে। তারপরও ২০০৪ সাল পর্যন্ত মোটামুটি যশোরের টেনিস খেলাটি চালু ছিলো। এরপরে অস্বিত্ব বলতে গেলে বিলীন হয়ে যায়। এর ১৪ বছর পরে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে টেনিস তারকা রতœা রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় যশোর জিমনেসিয়ামে শুরু করে দিয়েছেন টেবিল টেনিসের চর্চা। এক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির।
টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণ নেয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থী জিকরানুরের পিতা আলী আকবর সিদ্দিক বলেন, শিশুরা যদি ছোট বেলা থেকেই ক্রীড়ানুরাগী হয় তা হলে খারাপ দিকে যেতে পারে না। সে কারণেই আমার সন্তানকে ক্রীড়ার দিকেই ঠেলে দিয়েছি। এখানে প্রধান অন্তরায় জায়গা সংকট ও ক্রীড়া সামগ্রীর স্বল্পতা। ক্রীড়া সংগঠকরা এ বিষয়টি আমলে নিলে ক্রীড়াঙ্গন উপকৃত হবে।
সাবেক জাতীয় দলের টেবিল টেনিস তারকা রতœা রহমান বলেন, রাতারাতি সব কিছু অর্জন করা যায় না। সদিচ্ছা ও ক্রীড়া সংগঠকদের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা থাকলে এক সময় না এক সময় বড় সাফল্য আসা সম্ভব। দীর্ঘদিন যশোর থেকে হারিয়ে গেছে টেবিল টেনিস। এখন চেষ্টা করছি এটা জাগ্রত করার। একদিন না একদিন ক্রীড়ার এই ইভেন্টটি আবার যশোর জেলায় জনপ্রিয়তা পাবে। এর জন্য জেলার সকল মহলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

SHARE