নববধূ নিয়ে উধাও বরসহ পরিবার মেয়ের বাবাকে জরিমানা

বাল্যবিয়ের খবরে চৌগাছায় ইউএনওর অভিযান

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি॥ যশোরের চৌগাছায় বাল্যবিয়ের সংবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত হলে প্রথমে মেয়ের বাড়ির সকলেই পালিয়ে যায়। এরপর ইউএনও বরপক্ষের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলে সেখান থেকে নববধুকে নিয়ে বরসহ বরপক্ষের পরিবার বাড়ি ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাল্যবিয়ে দেয়ার অপরাধে মেয়ের পিতাকে আটক করা হয়। এক পর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে উপজেলার মন্মথপুর ও তাহেরপুর গ্রামে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম জানান, সোমবার বিকেল চারটায় সংবাদ পাই উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের মন্মথপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়–য়া নাবালিকা মেয়েকে (নাজনিন) বিয়ে দেয়া হচ্ছে একই উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মমিনুর রহমানের সাথে। এসময় মেয়েটির পিতাকে মেয়ের জন্মসনদ নিয়ে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য সংবাদ পাঠানো হয়। কিন্তু মেয়ের পিতা মূল জন্মসনদ লুকিয়ে ফেলে ভূয়া জন্মসনদ দিয়ে একজনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পাঠায়। একই সাথে মেয়ের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে ফেলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম জন্মসনদটি যাচাই করে দেখতে পান সেটি ভূয়া। এরপর তিনি সন্ধ্যার আগ দিয়ে পুলিশসহ অভিযান চালান মন্মথপুর গ্রামে। ইউএনও পৌছানোর খবরে মেয়ের বাড়ি থেকে সবাই সটকে পড়েন। বরযাত্রী বহনকারী একটি মাইক্রোবাস ছাড়া আর কেউই ছিলনা সেখানে। সেটির চাবি নিয়ে নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এরপর বরের গ্রামের বাড়ি তাহেরপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আগেই সংবাদ পেয়ে নববধূ ও বরসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা মেরে পালিয়ে যায়।
পরে মাইক্রোবাসের চাবি নিতে ইউএনও কার্যালয়ে আসলে তাদের মধ্য থেকে সনাক্ত করে মেয়ের পিতা রবিউল ইসলাম ওরফে সাধুকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জারিমানা করা হয় এবং থানা হাজতে রাখা হয়। পরে রাত ১০টায় জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান তিনি।

SHARE