মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে শাহীন চাকলাদারের সাক্ষাৎ

ফাইল ফটো

বৈঠকে তৃণমূলের বাস্তবতা তুলে ধরেন ১৮ জনপ্রতিনিধি

ফাইল ফটো

দেবু মল্লিক
যশোর পৌরসভার মেয়রসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার রাতের ওই সাক্ষাতে তারা যশোর-৩ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি তোলেন। এর আগে শাহীন চাকলাদারের সাথে একান্তে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার রাতে গণভবনে উপস্থিত একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রির প্রথম দিন গত শুক্রবার শাহীন চাকলাদার মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। আর জমা দেন গতকাল রবিবার। এর আগে শনিবার রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন যশোর পৌরসভার মেয়র জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুসহ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যশোর-৩ নির্বাচনী এলাকার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে শাহীন চাকলাদারকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে আটটার পর আমরা গণভবনে প্রবেশ করি। আর বেরিয়ে আসি রাত ১১টার পর। এসময় নেত্রীর সাথে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাত হয়েছে। তার কাছে আমরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মনোনয়ন দাবি করেছি। নেত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলেছেন। আমরা আশা করছি শাহীন চাকলাদারকেই নেত্রী নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।’
জানা যায়, গণভবনে মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর মিলে যশোরের অন্তত ১৮জন জনপ্রতিনিধি নেত্রীর সাথে কথা বলেন। তারা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন, যশোর-৩ আসনে অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগের বাইরের মানুষদের নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর এসব নেতারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খবর নেননি। কোন কোন ক্ষেত্রে দলের তৃণমূলের নিবেদিত কর্মীরা লাঞ্ছনারও শিকার হয়েছেন। এজন্য তৃণমূল কর্মীদের দাবি শাহীন চাকলাদার তাদের খোঁজ-খবর রাখেন, তাই তিনিই যেন নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পান।
সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের এমন বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে সব খবর আছে। একাধিক জরিপ রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছি। কার সাথে জনগণের সম্পর্ক আছে, কে নেতাকর্মীদের আগলে রাখে সব আমি জানি। নৌকাকে জয়ী করতে হবে। কোনভাবেই ২০০১ সালে ফিরে যাওয়া যাবে না। তাহলে দেশ পিছিয়ে যাবে। এলাকায় গিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করো। যোগ্যপ্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবো।’
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন, চাঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাস, হৈবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, কচুয়া ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাবক, দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান, উপশহর ইউপি চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু, বসুন্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল, চুড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না, রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান নাজনীন নাহার, যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, নাসিমা আক্তার জলি, মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, হাবিবুর রহমান চাকলাদার মনি, সন্তোষ দত্ত ও গোলাম মোস্তফা।

SHARE