শরণখোলায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকুলীয় অঞ্চলে চলতি বছরে আমন ধানের বামপার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে অনাবৃষ্টির কারণে উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠ শুকিয়ে যায়। এরফলে ধানের চারা হলদে রং ধারণের পাশাপাশি নানা প্রকার পোকার আক্রমন দেখা দেয়। এতে অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েন এ অঞ্চলের চাষীরা। অপরদিকে, উপকুলীয় এলাকা জুড়ে ৩৫/১ পেল্ডারের ভেরীবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় নদীর সাথে সংযুক্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নির্মিত গেট গুলো বন্ধ থাকার কারণে নদী থেকে পানি সরবারহ না হওয়ায় চাষীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু চলতি আমন মৌসুমে উপকুলীয় এলাকায় কয়েক দফা নি¤œ চাপ ও ঘুর্ণিঝড় তিতলীর তান্ডব ঘটে। এতে ৫/৭ দিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই উপকুল জুড়ে আমন রোপার আমুল পরিবর্তন ঘটে। যা চাষীদের জন্য আর্শীবাদ হয়ে দাঁড়ায়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪ হাজার ৮০০ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল (উপশি) এবং ৪ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ২৬২ মেঃ টন। যা গত বছরের তুলনায় ৪০০ মেঃ টন বেশী। উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামের চাষী চিত্তরঞ্জন শীল, রিপন শিকদার, বাবুল খান, রাজাপুর এলাকার আফজাল হোসেন, ধানসাগর এলাকার ইউসুফ হাওলাদারসহ অনেকে বলেন, এবছরের চাষাবাদের শুরু থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় তারা সঠিক সময় মাঠে ধানের চারা রোপন করতে পারেননি। অনেক কষ্টে রোপন করতে পারলেও দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির দেখা ছিলো না। তবে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় তিতলিসহ উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দফা নি¤œ চাপের সৃষ্টি হওয়ায় প্রাণ ফিরে আসে আমন আবাদের। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো চিত্র পাল্টে যায়। তাই চলতি বছরে আমন ধানের বামপার ফলন হবে বলে তারা আশাবাদী। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে আমন চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মাঝে দু:শ্চিন্তা থাকলেও দফায় দফায় নি¤œচাপ সৃষ্টি হলে উপকুল জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। যার ফলে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। তবে চাষীদের খোঁজখবর রাখার জন্য উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ১০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। এছাড়া ২২টি আইএফএম প্রকল্পের আওতায় ৫০টি আইপিএম কøাবের মাধ্যমে চাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ চলছে।

শেয়ার