বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে যশোর হাসপাতালে জেনারেটর সংযুক্ত

এস হাসমী সাজু
লোড শেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জেনারেটর সংযোজন করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে আর ব্যাহত হবে না অপারেশন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না চিকিৎসক ও নার্সদের। লোডশেডিং মোকাবিলায় শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৩৫ কেলভিন ওয়াটের বৈদ্যুতিক জেনারেটর স্থাপন করেছে।
জানা গেছে, হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহের দুটি আলাদা লাইন সংযোগ রয়েছে। অনেক সময় একটি সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আরেকটি চালু থাকে। কিন্তু অনেক সময় বিদ্যুতের দুটি সংযোগের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালটি ২০০৩ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলে বিদ্যুতের বিকল্প চাহিদা পূরণের জন্য দুটি জেনারেটর ও আইপিএস কেনা হয়। কিন্তু এইগুলো দিয়েও বিদ্যুতের চাহিদা মিটলেও ব্যবস্থাপনার অভাবে এ মেশিন সময় মত অপারেট করতে সামস্যা দেখা দেয়। ফলে অপারেশন চলাকালে বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসকদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। বিদ্যুত কর্মী জেনারেটর চালাতে গিয়ে অনেক সময় পার করে ফেলে। ফলে সমস্যা সমস্যাই থেকে যায়।
এদিকে, অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০০৭ সালে চিকিৎসকরা নিজেদের অর্থায়নে অপারেশন থিয়েটারের জন্য আরও একটি জেনারেটর ক্রয় করেন। এই জেনারেটরসহ হাসপাতালের জেনারেটর মিলে মোট চারটি জেনারেটরে তেল খরচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করতে না পারায় সেগুলি ব্যবহার বন্ধ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে হাসপাতালে ৮৫ কেবির অটো জেনারেটর সংযুক্ত হয়। বর্তমানে সেটা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সংক্রামক ওয়ার্ডের পাশে। ফলে বিদ্যুত চলে গেলে রোগী আপারেশন ও ওয়ার্ডে সেবা এবং রোগীর স্বজনদের সমস্যা অব্যাহত থাকে। এমনকি ওয়ার্ডে চিকিৎসক ও সেবিকারাও তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারে না। এই সমস্যা সমাধানে হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে একটি ১৩৫ কেবি’র অটো জেনারেটর চলতি বছরের জুনে হাসপাতালে আনেন। যা সংযোগের কার্যক্রম গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়। পরে শুক্রবার এটি সাময়িকভাবে চালু করা হয়। এর ফলে হাসপাতালটি অন্ধকার মুক্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ রহিমা বেগম জানান, এই জেনারেটর চালু হওয়ায় কাজ করতে সুবিধা হবে।
হাসপাতালের বিদ্যুত কর্মী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেনারেটর স্থাপনের পর পরীক্ষামূলকভাবে শুক্রবার চালু করা হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ড ভিত্তিক লাইন পৌঁছাতে আরও দু’একদিন সময় লাগবে। বিদ্যুত চলে গেলে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে মেশিনটি অটো চালু হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, বিদ্যুত চলে গেলে হাসপাতালের অনেক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু এ জেনারেটর চালুর ফলে সে সমস্যা আর থাকলো না।

শেয়ার