উদীচীর সুবর্ণজয়ন্তীতে যশোর শাখার আলোচনায় বক্তারা বাঙালি জাতি সত্ত্বার বিকাশে উদীচীর প্রয়াস অব্যাহত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সোমবার দিনভর আকাশের মুখ ছিল গোমরা। বিকেলের দিকে টিপটিপ করে বৃষ্টিও নামে। প্রকৃতির এমন বৈরিতার মধ্যেও যশোর শহরের মুন্শি মেহরুল্লাহ ময়দান মুখর ছিল নাচ, গান আর কবিতায়। গতকাল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে ছিল উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান। ‘আঁধারবৃন্তে আগুন জ্বালো আগুন জ্বালো, আমরা যুদ্ধ, আমরা আলো’-এমন মর্মবাণী উপজীব্য করে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।
প্রথমে জাতীয় সংগীত তারপর উদীচী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা ও উদীচী’র পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয় এক ঝাঁক শান্তির প্রতীক কবুতর।
উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এসময় বক্তারা বলেন, দুর্নীতি ও অবক্ষয়রোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করা সময়ের দাবি। এ দাবি বাস্তবায়নে ‘মানুষের পাশে মানুষ’ এই বিশ্বাস নিয়ে উদীচী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাঙালি জাতি সত্ত্বার বিকাশে উদীচী তার জন্মলগ্ন থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এ প্রয়াস যেন অব্যাহত থাকে।
বক্তারা আরো বলেন, সত্যেন সেন, রনেশ দাশগুপ্ত’র হাতে গড়া উদীচী সবসময় নিপীড়িত নির্যাতিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে। সকল স্বাধিকার আন্দেলনে তারাই অগ্রগামী। এই অনন্য ব্যক্তিদের আদর্শ বুকে ধারণ করে সকলকে সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় সামিল হতে হবে। আলোচনা পর্বে উদীচী যশোরের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুস শহীদ লাল, অধ্যাপক সন্তোষ হালদার, কলামিস্ট আমিরুল ইসলাম রন্টু, উদীচী যশোরের সাবেক সভাপতি সোমেশ মুখার্জী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু ও উদীচী দলীয় সংগীতের গীতিকার আশরাফ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব। সঞ্চালনা করেন উদীচী যশোরের সদস্য শুভঙ্কর গুপ্ত ও আবৃত্তি শিল্পী কাজী শাহেদ নওয়াজ।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে উদীচীর শিল্পী এবং সত্যেন সেন পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অর্জনকারীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। গণসংগীত নৃত্য এবং আবৃত্তি দিয়ে সাজানো হয় এ অনুষ্ঠান। শেষে ‘সত্যেন সেন পুরস্কার প্রতিযোগিতায়’ বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
এদিকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন সকালে উদীচী প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও সংগঠন পতাকা উত্তোলন শেষে শোভাযাত্রা নিয়ে যশোরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শেয়ার