ঝিকরগাছায় এমপি মনিরুলের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের ঝিকরগাছায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাফিজুর রহমান হেম’র স্মৃতিস্তম্ভের জন্য সংরক্ষিত সোয়া ৫শতক জমি স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলামের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের নামে দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঝিকরগাছার হাজিরবাগ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা জেম। রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা জেম উল্লেখ করেন, ঝিকরগাছার হাজিরবাগ মৌজার ৭৩ নম্বর দাগে সোয়া ৫ শতক জমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাফিজুর রহমান হেম’র স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য নির্ধারণ করা আছে। সম্প্রতি সেই জায়গা বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের বাবা আবুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের নামে দখল করা হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও জমি দখলমুক্ত করা যায়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিষয়টি জানতে পারি এমপি মনিরুল ইসলাম তার বাবার নামে আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান করতে যাচ্ছেন। তার নিজস্ব লোকজন নিয়ে পরিচালনা কমিটি করেছেন। কমিটির সভাপতি আবদুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। আর সদস্যরা হলেন-আবুল কালাম আজাদ, ইমামুল মাস্টার। হঠাৎ এমপি মনিরুল ইসলাম জিলা পরিষদ থেকে আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের নামে টেন্ডার করে আমার বিভিন্ন দাগের জমিসহ অনেকের প্রায় তিন একর জমি প্রাচীর দিয়ে দখল করে নিয়েছে। এরমধ্যে এমপি মনিরুলের যৎসামান্য জমি রয়েছে। দখলকৃত জমির মধ্যে ভূমিহীন দুই মহিলার ২২ শতক জমিও রয়েছে। বর্তমানে দখলকৃত জমি কেউ ফেরত পাচ্ছে না। উল্টো লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমপি সাহেব বলছেন, বৃহৎ কাজের জন্য আপনাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমার কথা হচ্ছে, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে, আমার শহীদ ভাইয়ের জন্য রাখা জমিটুকু কি করে তাকে দিই। আমার বাবা ও এমপি মনিরুল ইসলামের বাবা আমার ভাই মাফিজুর রহমান হেম’র স্মৃতি রক্ষার জন্য এই জমি নির্ধারণ করেছিল। আর এই জমির মালিক আমি নিজেই। আমার ভাইয়ের স্মৃতিরক্ষার জন্য রাখা জমি দখল না করার জন্য বহু সংস্থার কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কোন ফল পায়নি। জমি দখলমুক্ত করার জন্য ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলাম। অনুলিপি জেলা পরিষদ ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়েছিলাম। কিন্তু কোন ফল পায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পর হঠাৎ দেখি উপজেলা প্রকৌশলী ও এমপি মনিরুল ইসলাম আমার জমিসহ তাহার জমির কিছু অংশ লে আউট দিচ্ছেন বিল্ডিং করার জন্য। পূর্বে যে জমির অংশ লেআউট দিয়ে ঘিরে নিয়েছেন, তার নাম দিয়েছেন আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশন চত্ত্বর। সম্প্রতি ওই চত্বরে এলজিইডি থেকে ৫৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয়ে আবুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর নামে একটি প্রকল্প পাস করেছে। কাজটি বন্ধ রাখার জন্য গত ৪ সেপ্টেম্বর এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছিলাম। অনুলিপি জেলা প্রশাসকওে দেওয়া হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক এক চিঠিতে আমাকে জানান, ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত করেননি। তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১০ অক্টোবর সরেজমিনে তদন্তের কথা জানান। কিন্তু সেদিন তিনি যাননি। ফলে দখলকৃত জমিতে বিল্ডিং নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের স্মৃতিরক্ষায় জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফেসবুক ইনবক্সে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ফেসবুক ইনবক্সে এমপি মনির ব্যাখা দিয়ে বলেছেন, গোলাম মোর্তাজা জেম আমার পিতার চাচতো চাচাতো ভাই। মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে কখনোই বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না, জয় বাংলা স্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী লোক। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। ২০০১ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসলে তখন জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়। ২০১৭ সালের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। হাইকোর্টে একটি মামলা করে সে ভাতা উত্তোলন করছে। বর্তমান জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার আপন ছোট জামাতা তারেক জিয়ার হাওয়া ভবন দেখভাল করতেন। তারেক জিয়ার পিএস ছিলেন আশিকুর রহমান পাপ্পু। এখন আমেরিকায় পলাতক জীবন যাপন করেন।
এমপি মনির আরও দাবি করেছেন, যে জমি নিয়ে অভিযোগ করছে ওইখানে আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে আমার এবং আমাদের অন্য শরিকরা, গ্রামবাসী মিলে একটি বাউন্ডারির মধ্যে ২২৫ শতক জমি নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে গোলাম মোর্তোজা জেমসহ তার এক ভাই ও তিন বোন মিলে মাত্র ৯ শতক জমি। তাদের জমি বাদ রেখে আমি ইতিমধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি “মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গণপরিষদ সদস্য আবুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের” এর নামে। সরেজমিনে তদন্ত করে তার সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য যদি ১% সত্য হয়, তাহলে আমার বলার কিছু নেই । আর যদি ১% সত্য না হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপনাদের নিউজ করা উচিত।

SHARE