‘বন্দি জীবনে’ আক্ষেপ শেখ হাসিনার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সরকার প্রধান হিসেবে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা জীবনে পুরনো সময় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার জেদ্দায় এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে সরকার প্রধান না থাকা অবস্থায় সৌদি আরব ভ্রমণের কথা মনে করে এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “এই জেদ্দায় এমনও দিন গেছে, তিনটা জায়গায় সভা করেছি। আগের মতো যে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতাম, সে সুযোগটা আর এখন হচ্ছে না।”
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সারি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে একথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
“এখন একটা প্রটোকলের বেড়াজাল, সিকিউরিটির বন্দি জীবন; এই হয়ে গেছে আমার সমস্যা।”
সরকার প্রধান হিসাবে কাজের চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সময়ও কম, অনেক অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে হচ্ছে।”
ইচ্ছা থাকলেও জেদ্দায় সবার সঙ্গে কথা বলতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, “সব থেকে দুঃখ সকলের সাথে সাক্ষাত হল না। এখানে যারা কয়েকজন উপস্থিত আছেন.. আমার অতি চেনা মুখ।
“যখন আমরা এসেছি, ওমরাহ করেছি, সব সময় আমাদের সাথে সাথে থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন; সেই কথাগুলো সব সময় মনে পড়ে।”
মদিনায় মহানবীর (সা.) এর রওজা জিয়ারতের পর বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সৌদি সরকারের বিশেষ বিমানে জেদ্দা আসেন।
রিয়াদে কর্মব্যস্ত দিন শেষে বুধবার রাতে মদিনায় পৌছেই মসজিদ-ই-নববীতে এশার নামাজ আদায় করেন শেখ হাসিনা।
মদিনায় যাওয়ার আগে বুধবার রিয়াদে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। ওই দিন রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
জেদ্দায় কনসুলেট ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করতে পেরে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখানে বাংলাদেশের নিজস্ব একটা ভূখ- হল।”
দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রেমিটেন্স আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। আমরা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছি।”
বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা।
যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে বিদেশে কাজ করতে এসে বিপদের সম্মুখীন হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুঃখের বিষয় এটাই; এই যে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি, মহিলা যারা আসে তাদের জন্য, অনেকেই ট্রেনিং করেন না ঠিক মতো।
“দু’পয়সা খরচা করেই একখানা সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়। আর, বিদেশে এসে বিপদে পড়ে যায়। এখানে অনেকে আছেন; তারা এই কথাটা পৌঁছে দেবেন। ট্রেনিংটা তারই কল্যাণে। তা না হলেই তারা অত্যাচারিত হয়, নির্যাতিত হয়। অনেকেই ট্রেনিং ফাঁকি দিয়ে চলে এসে বিপদে পড়ে। এটা যেন কেউ না করে।”

SHARE