বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কুষ্টিয়াকে উড়িয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যশোর

ইমরান হোসেন পিংকু, খুলনা থেকে॥ বল মাঠে গড়ানোর তিন মিনিটে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিলো যশোরের ডিফেন্ডার মোস্তাকের। রেফারি ডাক্তারের জন্য চিৎকার করছে, ধারাভাষ্যকার মাইকে ঘোষণা দিলেন ডাক্তারকে আসার জন্য। তবে মিনিট ৫ অপেক্ষা করেও মাঠে কোন ডাক্তার পাওয়া যায়নি। পরে দলীয় ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মাঠে নামানো হয় মোস্তাককে। এরও ১৫ মিনিট পর মাঠে আসে ডাক্তার। করা হয় ব্যান্ডেজ। এই অবস্থায় মোস্তাক মাঠে ছিলেন ৫০ মিনিট। শুধু মাঠেই থাকেননি প্রতিপক্ষ দলের স্ট্রাইকারদের খোলসবন্দি করে রেখেছিলেন। মোস্তাকের এই দৃঢ়তায় ও তার দুই সতীর্থ লাল ও স্বাধীনের জোড়া গোলে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রথম খেলায় বড় জয় পেয়েছে যশোর জেলা দল। বৃহস্পতিবার খুলনা জিলা স্কুল মাঠে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছে কুষ্টিয়া জেলাকে।
উপরের প্রাথমিক চিকিৎসা বিলম্বের এই চিত্রের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের অব্যবস্থাপনায় প্রকাশ পায়। বিভাগীয় পর্যায়ের খেলার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত তার কিছুই ছিল না। বল বয়, অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের বসার যায়গা, এমনকি সংবাদ কভার করতে যেয়েও সাংবাদিক নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।
টুর্নামেন্টের ভেন্যু খুলনা জিলা স্কুল মাঠও ছিল খেলার অনুপযোগী। কোথাও চিকচিকে বালি আবার কোথাও উঁচু ঘাষে ভরা ছিল। এজন্য যশোর তাদের প্রত্যাশিত ছন্দময় খেলা উপহার দিতে পারেনি। তারপরও পাঁচটি গোল করে জয় ছিনিয়ে এনেছে।
খেলার প্রথম থেকে গোলের জন্য মরিয়া ছিল যশোর। ১৭ মিনিটে ইয়াছিনের বাড়ানো বল থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় লাল। এর ৩ মিনিট পর স্বাধীনের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় যশোর জেলা দল। লাল ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় যশোর। খেলার ২৮ মিনিটে কর্নার থেকে নিজেদের ভিতরে ছোট পাস খেলে সাকিব ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এই দুই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় যশোর জেলা দল।
বিরতির পর আরো তিন গোল করে হালিম রেজার শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ব্যবধান ৩-০ করেন আরিফ হোসেন লাল। খেলার ৪৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি দলকে ৪-০ গোলে এগিয়ে নেন স্বাধীন। খেলার শেষ মিনিটে কুষ্টিয়ার জালে শেষ পেরেক ঠুকেন যশোর জেলা পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড় আরিফ হোসেন লাল। প্রতিপক্ষ কুষ্টিয়া কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাঝে মধ্যে যশোরের গোলমুখে আক্রমণ করলেও তা থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেননি তারা। যশোর জেলা দলের কোচ হালিম রেজা খেলোয়াড়দের খেলায় খুশি। তবে মাঠ ভাল থাকলে ছেলেরা আরোও ভাল খেলতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আজ বেলা ১১টায় একই মাঠে যশোর তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা সিটি কর্পোরেশন দলের বিপক্ষে খেলবে। টিম ম্যানেজার এসএম মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, শুধু মাঠের সমস্যা না। পুরো ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নানা ত্রুটি। মাঠে ছিল না প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা। খেলার ৩ মিনিটে মাথায় আঘাত পেয়ে যশোরের ডিফেন্ডার মোস্তফার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরলেও ডাক্তারের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার ফলে যশোরের কর্মকর্তারা নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এর ১৫ মিনিট পর ডাক্তার এসে তার মাথায় ব্যান্ডেজ দেয়া হয়। মাঠের বাইরে বল গেলে তা কুড়িয়ে এনে আবার খেলতে হয় খেলোয়াড়দের।

শেয়ার