যশোরের যুবলীগ নেতা আলমগীরের খুনি পাগলা শাহীন মাগুরায় নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরতলীর রামনগরের পুকুরকুলের শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামি শাহিন ওরফে পাগলা শাহিন মাগুরার শালিখায় খুন হয়েছেন। শালিখার শতখালী থেকে বৃহস্পতিবার থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। প্রথমে অবশ্য লাশটি অজ্ঞাত ছিল। পরে লাশটি শাহীনের বলে সনাক্ত করেন স্বজনরা।
শাহীন ওরফে পাগলা যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি খালেদুর রহমান টিটোর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরা-যশোর সড়কের শতখালী এ আর জুটমিল এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শালিখা থানা পুলিশ ওই মরদেহ উদ্ধার করে। আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাম কানের নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলিটি তার বাম কানের নিচ দিয়ে ঢুকে মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে। তবে পুলিশ এখনো মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে যশোরের বিভিন্ন সূত্র বলছে, গুলিতে নিহত ওই ব্যক্তি যশোর শহরতলীর রাজারহাট এলাকার শাহীন ওরফে পাগলা শাহিন। যুবলীগের একজন নেতা জানান, শাহিন সংগঠনের সদর উপজেলা কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত। ২০১৪ সালের ২৫ মে আলমগীর হোসেন রাজারহাট এলাকায় আক্রান্ত হন। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এর প্রায় এক মাস পর ১৮ জুন আলমগীর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
যুবলীগের ওই নেতা বলেন, আলমগীরকে গুলি করেছিলেন শাহিন। সেই কারণে ওই হত্যা মামলায় তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়। আলমগীর মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দিতে তার ওপর হামলাকারীদের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, সেখানে শাহিনের নাম ছিল।
শাহিন যশোরে খালেদুর রহমান টিটোর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। টিটোর ছেলে মাশুক হাসান জয় সংবাদকর্মীদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জয় বলেন, ‘শাহিন মারা গেছেন বলে শুনতে পাচ্ছি। তবে আমি নিশ্চিত নই।’ শাহিন তাদের সঙ্গে রাজনীতি করতেন বলে নিশ্চিত করেন জয়।
সূত্র মতে, যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন হোসেন খুনের ঘটনায় তার বড় ভাই আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই আবুল খায়ের মোল্যা ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। কিন্তু এরপর থেকে পাগলা শাহিন, বিসমিল্লাহ ও ফসিয়ারসহ প্রধান অভিযুক্ত কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিল। সম্প্রতি পাগলা শাহিন মণিরামপুর এলাকায় অবস্থান এবং সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরু করে। এরই মধ্যে গত তিনদিন আগে পাগলা শাহিনকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরার শালিখা থেকে অজ্ঞাত একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে যশোরের রাজারহাট এলাকায়। এ খবরে ভেঙ্গে পড়ে পরিবারের লোকজন। এক পর্যায় এদিন সন্ধ্যায় পাগলা শাহিনের মা রিজিয়া বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পেয়ে নিশ্চিত হন যে অজ্ঞাত ব্যক্তি তারই ছেলে পাগলা শাহিন। এছাড়া পাগলা শাহিনের ভাইপো তুহিনও সেই ছবি দেখে সনাক্ত করেছেন। তবে পাগলা শাহিনের বিরুদ্ধে ২টি খুন, ২টি ডাকাতি, ২টি অস্ত্র, মারামারিসহ প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

SHARE