মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে মোস্তসহ তার সহযোগীরা

রাজগঞ্জ (যশোর) প্রতিনিধি ॥ মাদক বিকিকিনির বিরোধীতা করায় আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তির ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে মাদক বিক্রেতাদের হোতা রাজগঞ্জের চাকলা গ্রামের গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তসহ তার সহযোগীরা। একই সাথে তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী ও হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত মশ্মিমনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তর বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানা ও আদালতে মাদক চোরাচালান, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে না।
বুধবার রাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ভুক্তভোগী উপজেলার একই গ্রামের ভাড়ায় চালিত মোরটসাইকেল চালক আসাদুজ্জামান আসাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝাঁপা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন চাকলাদার, ছাত্রলীগ নেতা নাঈম হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল্লাহ ও রেহেনা বেগম প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় চাকলা গ্রামের মৃত কদম আলী গাজীর ছেলে গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত এক দশক আগেও ভাংড়ী ও বার্মার এক ব্যবসায়ীর সাথে চুলের ব্যবসা করত। এক পর্যায়ে ২০১২ সালে সে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। শুরুতে স্থানীয়ভাবে গাঁজা বিক্রি করলেও পরবর্তীতে ফেনসিডিল ও ইয়াবার ব্যবসাও শুরু করে। ধীরে ধীরে চাকলা, খোর্দোঘাটের পাশাপাশি কাঁঠালতলা, নোয়ালী, চাঁপাতলা, মশ্মিমনগর, পারখাজুরা, বেলতলা, শাহপুর ও রামপুর এলাকায় মাদক ব্যবসার স্পট হিসেবে বেছে নেয়। বর্তমানে তার অধীনে অন্তত ২০জন মাদককারবারী এসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছে। তুলনামুলক দুর্গত এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য যশোর জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন শতাধিক মাদকসেবী এসব এলাকায় এসে মোস্তসহ তার সহযোগী মাদক কারবারীদের কাছ থেকে মাদক কিনে সেবন করে। একই সাথে তারা এসব এলাকার চিহ্নিত পয়েন্টে মাদকের আখড়ায়ও অংশ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এতে এলাকার পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ায় গত কয়েক মাস ধরেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন আসাদুজ্জামান আসাদ। এতে গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত ক্ষিপ্ত হয়ে এতদিন বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয় নিয়ে আসাদের সাথে গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তর কথা কাটাকাটি হয়। এসময় মোস্তর নেতৃত্বে তার ৬/৭জন সহযোগী আসাদকে লাঞ্চিত করে ও তার ব্যবহ্নত প্লাটিনা ১০০সিসি মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। যার নম্বর যশোর-হ-১৬-২৭৭৩। বর্তমানে আসাদের ওই মোটরসাইকেলটি মোস্ত ও তার বাহিনীর লোকজন এলাকায় চালিয়ে বেড়াচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান আসাদ আরো অভিযোগ করেন, তার ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়েও ক্ষ্যান্ত হয়নি মোস্ত বাহিনী। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে মোস্ত তার বাড়িতে যায়। এসময় আসাদ ও তার ছেলে বাড়িতে না থাকার সুযোগে মোস্ত তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। পরদিন সকালে প্রতিবাদ জানালে মোস্ত হুংকার ছুড়ে বলে তোর মতো আসাদকে হত্যা বা নাশকতাসহ একাধিক মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে মাত্র কয়েক হাজার টাকা খরচ হবে।
উল্লেখ্য গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তর বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর ও চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। যার নম্বর ২৬ ও ৩১। এছাড়া ২০১৭ সালে ২২ মে চাকলা গ্রামের হাসেন আলীর স্ত্রী ছায়রা বেগম বাদী হয়ে মোস্তর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ওই একই বছরে চাকলা গ্রামের আব্দুল মাজেদ সরদারের স্ত্রী নুরনেছা বেগম গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তর বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে একটি মামলা করেন। যার পিটিশন নম্বর-১০৮। ২০১৭ সালে নোয়ালী গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন মোস্তর বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে একটি মামলা করেন। যার পিটিশন নম্বর-১১৭। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার মাদক সম্রাট মোস্ত ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার