মণিরামপুরে ৩০৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ ॥ অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর ॥ মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাজারে আড়ৎ ব্যবসায়ী নূর ইসলামের ঘর থেকে ভিজিএফ-এর ৩’শ ৩ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার ও অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল খাটুরা বাজারে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ একাবাসীর উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী নূর ইসলামের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ কেজি ওজনের প্লাষ্টিকের ৩’শ ৩ বস্তা চাল পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক জানান, ৩’শ ৩ বস্তা চাল জব্দ করে ঘরটিকে সিলগালা করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জব্দকৃত চাল ৩০ কেজি ওজনের সরকারি বস্তা থেকে ৪’শ বস্তা চাল রয়েছে ওই ঘরে। স্থানীয় লোকজন দাবী করেন, চালগুলো বিভিন্নভাবে ক্রয় করে ব্যবসায়ী নূর ইসলামের ৩ জন লোক রোববার গভীর রাতে বস্তা পরিবর্তন করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চালগুলো ৩টি ভ্যানে করে রোববার রাতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ব্যবসায়ী নূর ইসলামের ওই ঘরে আনা হয়। তবে চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম দাবী করেছেন বিতরণের পর চাল প্রাপ্ত ডিলাররা ব্যাবসায়ীদের নিকট ওই চাল বিক্রি করেছে। একই বাজারে সৌদিয়া মার্কেটের একটি ঘর থেকে সোমবার সকালে প্রায় ২ শতাধিক বস্তা ভিজিএফ এর চাল অন্যত্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান ভিজিএফ এর চাল ক্রয় করে রোববার রাতে ওই ঘরে রাখে। সোমবার সকালে চালগুলো কৌশলে আলমসাধু করে অন্যত্রে সরিয়ে ফেলা হয়। চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম রিপন ধর দাবী করেছেন স্থানীয় ৫ থেকে ৬ জন আড়ৎ ব্যবসায়ী এসব চাল ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত। সরেজমিন খোঁজ-খবর নিয়ে জানাযায়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। খাটুরা গ্রামের দিনমজুর সিদ্দিকুর রহমান, মধুপুর গ্রামের জাফর আলী, আব্দুর রহিম, দলিলুর রহমানসহ অনেকেই জানান, ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকার আমাদের ইউনিয়নে চালগুলো দিয়েছে। কিন্তু এ ইউনিয়নের অধিকাংশ গরীব পরিবার ঈদুল আযহার বিতরণকৃত ভিজিএফ এর চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। লোকমুখে শুনেছি চেয়ারম্যান রাতের আধারে কয়েক’শ বস্তা চাল বিক্রি করে দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী জানান, প্রাথমিকভাবে চালগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং আড়তদারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঈদের পর সরেজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।