মণিরামপুরে বসবাসের জমি দিয়ে বিপাকে একটি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর॥ যশোরের মণিরামপুরে বসবাসের জন্য জমি দিয়ে বিপাকে পড়েছে একটি পরিবার। ভোগদখলের জমি ছাড়াও ওই জমি লাগোয়া ৫৬ শতক জমি জবর-দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ওলিয়ার রহমান ও মতিয়ারসহ তাদের লোকজন। ওই চক্রটি জমি দখলে নিতে একের পর এক মিথ্যা, ভিত্তিহীন হয়রানিমূলক মামলাসহ হত্যার হমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।
পরবর্তিতে জমি দখল নিতে একাধিক দেওয়ানি মামলা করলেও বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তা খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এতেও থেমে নেই চক্রটির নানামুখী ষড়যন্ত্র। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকগণ।
জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে হাজরাকাটি গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ওলিয়ার রহমান ও মতিয়ার রহমান গং এবং আবুবক্কর মোল্যার (বর্তমানে মৃত) মধ্যে জমা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই জের ধরে ওলিয়ার ও মতিয়ার গং আবুবক্কর মোল্যা জীবিত থাকাকালে এবং পরবর্তিতে তার ওয়ারিশগণ নূরুল ইসলাম গং এর বিরুদ্ধে আদালতে ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৩ সালে কয়েকটি দেওয়ানী মামলা করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতে জমা-জমির পক্ষে দলিলপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ওই মামলাগুলি খারিজ করে দেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে একইভাবে মামলা করা হলে ওই মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। যার খারিজ আদেশ নং-৬৯,তারিখ-৩/১০/১৩।
নূরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বসবাসের জন্য জমি দেয়ার পরবর্তিতে লোভের বশবর্তি হয়ে ওলিয়ার রহমান ও মতিয়ার রহমান গং উল্লিখিত জমিসহ বিবাদীদের বসতবাড়ির অংশ বিশেষ জোরপূর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে তারা বাঁধা দিলে বিবাদি গং হুমকি-ধামকি দেয়াসহ আবারও মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয়। যার মামলা নং-৪৩/২০১৭ইং। যে কারণে তাদের পৈত্রিক ২৮৭ ও ২৮৮ হাল দাগ নং-এর ৫৬ শতক জমি নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদি ও তার লোকজন অবৈধভাবে জমি দখল নিতে ওই ৫৬ শতক জমির উপর আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মণিরামপুর থানা পুলিশেকে নির্দেশ দেন। তাদেরকে হুমকি দেয়ায় তারা নিজেরাও মতিয়ার গং-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ উঠেছে বাদী পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মাহাবুব জমির প্রকৃত মালিকদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্বেও আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
তবে এএসআই মাহবুব উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় একাধি সূত্রে জানা যায়, ওলিয়ার ও মতিয়ার গং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কর্মান্ডের সাথে জড়িত ছিলো। এাছাড়া ওলিয়ার রহমানের ছোট ভাই আব্দুল মাজিদ, ছেলে শফিয়ার রহমান, সুমন হোসেন এবং তাদের চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেন ২০১৩ সালে ওই এলাকায় নাশকতার কর্মকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিলো। এদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মামলায় তারা একাধিকবার হাজতবাসও করেছে। বিষয়টি সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শেয়ার