১২ লক্ষাধিক কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আগামী অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। যা চলতি বাজেটের তিনগুণ বেশি। গতকাল প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এক যোগে এই বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।
গতকাল দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা তুলে ধরেন সমিতির আজীবন সদস্য অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির আজীবন সদস্য মণিরামপুরের মশিয়াহাটী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুকুমার ঘোষ, উপশহর ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, অর্থনীতিবিদ সুকেশ জোয়ার্দার, অধ্যাপক সুকুমার দাস, সুনীল কুমার দাস, সেলিম রেজা, সিরাজুল ইসলাম, জিএম মোস্তাফিজুর রহমান, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
বিদেশি ঋণ ছাড়াই ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেটের অনুন্নয়ন খাতে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা আর উন্নয়ন খাতে ছয় লাখ ৬৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আয় থেকে আসবে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। বাকি টাকা অভ্যন্তর থেকে সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রধান প্রধান খাত হিসেবে আয় ও মুনাফার উপর কর, মূল্য সংযোজন কর, লভ্যাংশ ও মুনাফা, জরিমানা-দন্ড, বাজেয়াপ্তকরণ, সম্পূরক কর, লভ্যাংশ ও মুনাফা, অর্থপাচার রোধ থেকে প্রাপ্তি, কর ব্যতীত অন্যান্য রাজস্ব ও প্রাপ্তি, কালো টাকা উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি, সম্পদ কর, যানবাহন কর, মাদক শুল্ক, ভূমি রাজস্বকে উল্লেখ করা হয়।
অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এরপরে আছে যথাক্রমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জনপ্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ, কৃষি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস ও গৃহায়ন খাত।
বাজেট প্রস্তাবনায় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বর্তমানে দেশ থেকে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমান অর্থপাচার হচ্ছে। বাজেটে এ সমস্যা সমাধানে পদ্ধতিগত নির্দেশনা থাকতে হবে। অর্থপাচার রোধ থেকে আগামী অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব। এছাড়া কালো টাকা উদ্ধার করে আয় করা সম্ভব আরো ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেট বাস্তবায়ন হলে দেশে ধনী-গরীরে বৈষম্য হ্রাস পাবে।’

শেয়ার