যশোরে তরুণলীগ নেতা মনিরুলের খুনিদের রক্ষায় তৎপর শহর ও সদর যুবলীগের একাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর জেলা তরুণলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলামের খুনি ও সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে মাঠে নেমেছে শহর ও সদর উপজেলা যুবলীগের একটি অংশ। বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে সংগঠন দুইটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে মনিরুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের নির্দোষ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মুনির আহম্মেদ টগর, সৈয়দ মেহেদী হাসান, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সদস্য জাহিদুর রহমান লাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লুৎফুল কবীর বিজু, সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অশোক বোস, শহর যুবলীগের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান মিলু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ফয়সাল খান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, মনিরুল ইসলাম হত্যাকা-ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অংশ হিসেবে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুদ্দিন মিঠু, শহর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মেহবুব রহমান ম্যানসেল, সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য সাইদুর রহমান ডিম রিপন, যুবলীগ নেতা সাইদুল, মোস্ত, টিপন, মোমিন, হাফিজ এবং ছাত্রলীগ নেতা জসিম ও হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে সন্ত্রাসীরা জেলা তরুণ লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলামকে বোমা হামলা, গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকা-ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পাওয়ার পর দিন ১৫ মে সকালে নিহতের মা বাদী হয়ে সন্ত্রাসী মইনুদ্দিন মিঠু ওরফে নোয়াখাইল্যা মিঠুসহ ১১ জনের নামে মামলা করেন। মিঠু যুবলীগ কর্মী সরোয়ার আলম টুলু হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। টুলু হত্যা মামলার আরেক আসামি টিপনও মনিরুল হত্যার এজারভুক্ত আসামি। পাশাপাশি টিপনের পিতা আব্দুর রহমান ভ্যান-রিক্সা শ্রমিক দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক। মেহবুব আলম ম্যানসেল জন্ম সূত্রে বিএনপি। তার এর আগে বিরুদ্ধে হৃদয়, রুবেলসহ একাধিক হত্যা, অস্ত্র, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদকসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে। সাইদুর রহমান ডিম রিপনের ভাই ফিঙে লিটন দক্ষিণবঙ্গের শীর্ষ সন্ত্রাসী। সাইদুর রহমান যশোর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা পুরাতন টায়ার টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খুনের চার্জশিটভুক্ত আসামি। পালবাড়ির সাইদুলও একাধিক মামলার আসামি। মোস্ত মেম্বর ওরফে গোলাম মোস্তফা সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একই গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম ও তার ভাই এজাজ আহম্মেদ হত্যাসহ অস্ত্র, ডাকাতি মামলা রয়েছে। এই ১১ জনের বিরুদ্ধে নিহত মনিরুল ইসলামের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। যাদের সবাইকে নিজেদের নেতাকর্মী উল্লেখ করে নির্দোষ দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

SHARE