বিপদে কৃষকের পাশে স্বপ্নদেখোর বন্ধুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে বেশ ক্ষতি হচ্ছে ফসলের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ফসল রক্ষায় মঙ্গলবার থেকে মাঠে নেমেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘স্বপ্নদেখো’ পরিবার। যশোর সদরের হাশিমপুর গ্রামে এক ঝাঁক যুবককে নিয়ে তারা নেমেছে মাঠে। ধান কাটা ও গোছানোর কাছে কৃষককে সহযোগিতা করছে। শহর ও গ্রামের তরুণ-তরুণী একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষকের ক্ষেতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন।
সরকারি এমএম কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যশোর শহরের খড়কিতে বসবাস করি। জীবনে কখনো মাঠে সরাসরি ধান কাটার অভিজ্ঞতা হয়নি, আমি নিজের হাতে ধান কাটছি। স্বপ্নদেখোকে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজন করার জন্য। যেখানে আমার মতো শহরের শিক্ষার্থীরা ও নাগরিকরা কৃষকের প্রকৃত কষ্ট উপলব্ধি করার সুযোগ পাচ্ছে।’
যশোর শহরের নিউমার্কেটের বাসিন্দা এমএম কলেজের শিক্ষার্থী শ্রাবণী আক্তার বলেন, এর আগেও আমি দুইবার স্বপ্নদেখোর সাথে মাঠে কাজ করেছি। মাঠে কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়। তারপরও আমি প্রতিবার মাঠে আসার সুযোগ গ্রহণ করতে চাই। মাঠে কাজ করার পর থেকে খাবার পর আমার থালা থেকে আর একটিও ভাত নষ্ট হয় না। ভাত নষ্ট হতে দেখলে কষ্ট হয়। এখন উপলব্ধি করতে পারি আমাদের মুখে খাবার তুলে দিতে একজন কৃষক কতো পরিশ্রম করেন।
স্বপ্নদেখো’র সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু বলেন, বিগত চার বছর ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকের ক্ষেতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছি। বিপদে কৃষককে সহযোগিতা, শিক্ষিত যুবাদের কৃষিতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং কৃষকের কষ্ট উপলব্ধি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, ‘আমরা জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধানের চারা বপণ ও আগাছা পরিষ্কার করি। এখন জমিতে ধান কাটছি। এর মধ্য দিয়ে সমগ্র দেশের তরুণদের একটি বার্তা দিতে চাই, আপনারা এই সংকটময় মুহূর্তে কৃষকের পাশে এসে দাঁড়ান। কৃষকের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করুণ। আমাদের মতো শিক্ষিত যুব সমাজ পাশে পেলে কৃষক ভাইয়েরা মানসিকভাবে শক্তি পাবে। স্বপ্নদেখো সকল কৃষকের ক্ষেতে পৌঁছাতে পারবে না, তাই আমাদের সকলকে নিজের জায়গা থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, কৃষকদেরকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করতে হবে। আসুন আমাদের কৃষিটাকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখি। আমরা জাগলেই তো সকাল হবে। কৃষকের সহযোগিতায় মাঠে কাজ করেন, প্রতিষ্ঠানের সদস্য সুমন হোসেন জিনো, তাহারাত আক্তার শিমু, ফারজানা খাতুন, অহিদুল ইসলাম, শ্রাবণী আক্তার, শাওন, শাহীন ও জহির ইকবাল।

শেয়ার