কালীগঞ্জে আড়াই শতাধিক টেলিফোন সংযোগ দেড়মাস ধরে বিকল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)॥ বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড) এর টেলিফোনগুলি এখন শিশুদের খেলনায় পরিণত হয়েছে। গত দেড় মাস ধরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ২৫৮টি টেলিফোন সংযোগ বিকল হয়ে রয়েছে। এছাড়া কিছু সংযোগ রয়েছে গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ গ্রাহকদের প্রতিমাসে মিনিমাম চার্জ গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের কালীগঞ্জ অফিসের কর্মকর্তা বলছেন, সুইচ রুমের পিএমএসপি কার্ডটি গত ২৭ মার্চ নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর থেকে লোকাল কলের আউট গোয়িং এবং ইনকামিং বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ন্যাশনাল কলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে তাদের দাবি। বিশেষ ধরনের এই কার্ডটি দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়।
এছাড়া পৌরসভার পানির লাইনের উন্নয়ন কাজের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় হাসপাতালসহ বেশ কিছু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী পৌর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা দিচ্ছে না।
এদিকে প্রতিদিনই গ্রাহকরা এসে তাদের অভিযোগ জানিয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছে সরকারের এই জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনেক গ্রাহক বলছেন, গত ছয় মাস হলো টেলিফোনে ন্যাশনাল বা লোকাল কোথাও কল করা যাচ্ছে না।
হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দুটি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। গত নভেম্বর থেকে সংযোগ দুটি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তারপরও প্রতি মাসে মিনিমাম চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। কয়েকবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।’
কালীগঞ্জ শহরের বিশিষ্ট চিনি ব্যবসায়ী শাহিন ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার টেলিফোন এক মাসের বেশি বিকল রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীক কাজে জরুরি যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’
শহরের আয়েশা খাতুন তেলপাম্প পাড়ার বাসিন্দা জাকির হোসেন অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসে। তার ধারণা, মাসের বিল সমস্যার কারণে হয়তো সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরে জানতে পেরেছেন টেলিফোন অফিসের সুইচিং সমস্যায় এমন হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার অরুণ কুমার জানান, ছয় মাস হলো হাসপাতালের টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টেলিফোন অফিসে জানানো হয়েছে। তবে কোনো সমাধান হয়নি।
কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ মকছেদ আলী বলেন, ‘পৌরসভার যে কোনো উন্নয়ন কাজ করার সময় সরকারের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা। ছয় মাস আগে পানির লাইনে কাজ করার সময় বেশকিছু টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি এবং কোনো ছাড়পত্রও নেয়নি।’
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের কালীগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু জাহিদ বলেন, ‘সুইচিং কার্ড নষ্ট হওয়ায় এক মাস হলো এই সমস্যা চলছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
‘এছাড়া পৌর উন্নয়ন কাজের যেসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, সেসব কাজের ক্ষতিপূরণ চেয়ে চিঠি দিয়েছি। ক্ষতিপূরণ পেলেই সংযোগের কাজ করা হবে,’ বলেন প্রকৌশলী জাহিদ।

শেয়ার