খেলোয়াড় সৃষ্টির সূতিকাগার সাতক্ষীরার পিটিআই মাঠে এখন শুধুই খানা-খন্দ

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরা শহরের পিটিআই মাঠে অনুশীলন করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় হয়েছেন রবিউল ইসলাম শিবলু, মহিলা ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন ও খেলোয়াড় সুরাইয়া। এছাড়াও জাতীয় দলে রয়েছেন রওশন আরা, রুমা, রিক্তা, মুক্তা, মাসুরা, আরিফা, শারমীন, পারুল, প্রান্তি, জবা। জাতীয় মহিলা বক্সিং খেলোয়াড় হয়েছেন আফরা খন্দকার, জাতীয় কাবাডি খেলোয়াড় মিতা খাতুন পাখি, দোলা, জাতীয় মহিলা খোখো খেলোয়াড় আরিফা খাতুনও সাতক্ষীরার পিটিআই মাঠের সৃষ্টি। ছেলে মেয়ে সবাই এক সাথে সারাবছর অনুশীলন করে সমান তালে। এখন সবারই যেন একই উদ্দেশ্য জাতীয় খেলোয়াড়ে খেলে দেশ বিদেশের খ্যাতি কুড়িয়ে সাতক্ষীরাকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে পরিচিতি করে তোলা। এখানকার অনেক খেলোয়াড় এখন খেলা শিখছেন বিকেএসপিতে। এদিকে সাতক্ষীরার যে মাঠে অসংখ্য খেলোয়াড়ের জন্ম সেই মাঠের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। ছোট বড় খানা খন্দে মাঠটি যেমন হারিয়েছে তার সৌন্দর্য তেমনি খেলোয়াড়দের অনুশীলন করার মতো অবস্থায় নেই এই মাঠিটি। তারপরও নিরুপায় হয়ে সবাই একই পোশাক পড়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন সমান তালে। ক্রিড়ানুরাগীরা বলছেন খেলোয়াড় সৃষ্টির তীর্থপীঠ নামে পরিচিত সাতক্ষীরার
পিটিআই মাঠটিতে এখন শুধুই খানা খন্দ। দ্রুত সংস্কারের দাবি তাদের।
সাতক্ষীরার খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, সাতক্ষীরা সুলতানপুর পিটিআই মাঠ থেকে যুগ যুগ ধরে জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি হয়ে আসছে। তারা বলছেন উল্লেখিতদের বাইরেও সম্ভু সরকার এই মাঠে খেলা করেছেন অনেকবার। এখানে প্রতিদিন শতাধিক ছেলে মেয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, বক্সিং, খোখো ভলিবল অনুশীলন করছেন। এদের মধ্য থেকে প্রতিবছর বিকেএসপিতে সুযোগ পাচ্ছেন ২০/২৫ জন খেলোয়াড়। আর অনুশীলন করাচ্ছেন সাবেক খেলোয়াড় খন্দকার আরিফ হোসেন প্রিন্স। জাতীয় দলের এসব খেলোয়াড় সাতক্ষীরা আসলেই আবার অনুশীলন করার জন্য ছুটে আসে নাড়ীর টানে এই মাঠে। এখানে ছেলে মেয়ে সবাই মিলে খুবই আনন্দ উল্লাসে অনুশীলন করে। তবে বর্তমানে মাঠের অবস্থা খুবই নাজুক। খানাখন্দে পরিণত হয়েছে মাঠটি বেশির ভাগ জায়গা। অনুশীলনের অনুউপযোগী হওয়ায় ছেলে-মেয়েরা চোটও পাচ্ছেন। তারপরও অনুশীলন থেমে নেই। মাঠটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন খেলোয়াড়সহ ক্রিড়ানুরাগী অনেকে। একই সাথে তারা এই মাঠের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন কোচের দাবি জানান সরকারের নিকট।
খেলার মাঠে যেয়ে দেখা যায় সাতক্ষীরা সদর থানার সিকানদার বাবু অনুশীলন করছেন। এমসয় তিনি জানান, রবিউল, সম্ভু সরকার, মোস্তাফিজুর, সাবিনা সাতক্ষীরা থেকে খেলা শিখেছেন। তারা দেশ বিদেশে নামী দামি খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। সাতক্ষীরায় এই ভাবে অনেক জাতীয় দলের খেলোয়ার তৈরি হয়েছেন। আর পিটিআই মাঠ তো খেলোয়াড় তৈরি মাঠ। তিনি মাঠটি খেলার উপযোগী করার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাতক্ষীরা পিটিআই মাঠে কোচের দায়িত্বে থাকা খন্দকার আরিফ হোসেন প্রিন্স জানান, স্বাধীন বাংলার ফুটবল দলের খেলোয়ার আব্দুল খালেক ও শওকাত খান চৌধুরি হাত ধরে তারা খেলা শিখেছেন এই মাঠে। তারা জেলা ও বিভাগীয় শহরে খেলা করেছেন। সেই থেকে তার ইচ্ছা তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি করবেন। সেই উদ্দেশ্য তিনি প্রতিদিন খেলার মাঠে ছেলে মেয়েদের প্রশক্ষিণ দেন। এই মাঠের খেলোয়াড় রবিউল, সাকিনা, সুরাইয়া, সুরাইয়া, রওশন আরা, রুমা, রিক্তা, মুক্তা, মাসুরা, আরিফা, শারমীন, পারুল, প্রান্তি, জবা এখন খেলেন জাতীয় দলে। তার দুই মেয়ে তার নিকট থেকে খেলা শিখে এখন বিকেএসপিকে খেলছেন। এই মাঠের খেলোয়াড়রা কেউ ক্রিকেট, কেউ ফুটবল, কেউ খোখো, কেউ বক্সিং কেউ আবার ভলিবল খেলেছেন। একই মাঠে চলে সব খেলার অনুশীলন। অনেক খেলোয়াড় বিকেএসপিতে সুযোগ পেয়ে চলে গেছেন। এরা বাড়িতে আসলেই নাড়ীর টানে চলে আসেন এই মাঠে। তবে মাঠের অবস্থা খুবই নাজুক। খানা খন্দে ছেলে-মেয়েরা অনুশীলন করতে এসে চোট পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মাঠ সংস্কার করা খুবই দরকার বলে তিনি জানান।

শেয়ার