অনুমতি না দিলে প্রতেরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরায় সারাবছর জুড়ে চলাচল করছে ইজিবাইক। চলছে মাহিন্দ্রও। তাহলে রিকশা ভ্যান চালাতে বাধা কেনো। শহরে যানজটের সৃষ্টি করছে এসব ইউজিবাইক। অথচ এই শহরে রিকশা চলবে না, ভ্যান ভটভটি চলবে না নসিমন করিমন চলবে না এ কেমন কথা। এ আচরন বৈষম্যমূলক। এই আচরন বন্ধ করুন। রিকশা-ভ্যান চালিয়ে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে দিন।
রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন সাতক্ষীরা জেলা রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এ সময় তারা বলেন আমরা দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের পেটে লাথি মারবেন কেনো। তারা বলেন আমাদের রিকশা ভ্যান যেগুলো ধরেছেন, ছেড়ে দিন। আর ধরবেন না। আমাদের গাড়ি চালাতে দিন। চাইলে পৌরসভা আমাদের লাইসেন্স করে দিক। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউনিয়ন সভাপতি জহুর আলি ও সাধারন সম্পাদক মিলন কাগুজি বলেন, তাদের সংগঠনে ৩ হাজারেরও বেশি রিকশা ভ্যান শ্রমিক রয়েছে। ভ্যান রিকশার সংখ্যাও এর চেয়ে বেশি। শ্রমিকরা বিভিন্ন সমিতি অথবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি বানিয়েছেন। দিনের আয় দিয়ে তাদেরকে দায় শোধ করতে হয়। একদিন দেনা না দিলে তাদের ওপর মহাজনী খবরদারি বেড়ে যায়। দৈনিক আয় না করলে খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাসা ভাড়া দিতে না পারলে বাড়ির মালিক বের করে দেয়। গাড়ি ভাড়া না দিতে পারলে মালিক ভ্যান রিকশা কেড়ে নেয়। এতো সংকটের মধ্যে আপনারা আমাদের গাড়িগুলো ধরে রেখেছেন। বুঝতেই পারেন আমরা কেমন আছি। আমাদের ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজনও বা কেমন আছে। স্ত্রীর নামে ঋণ নিয়ে গাড়ি বানিয়েছি আমরা। কিন্তু সমিতির চাপে তারা বলছে হয় টাকা শোধ দাও, না হয় আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবো।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বারবার আমাদের ভ্যান রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আমরা আতংকে থাকি। গাড়ি চালাই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে। পুলিশ আমাদের থাপ্পড় মারে। লাঠিপেটা করে। কেনো আমরা কি চোর, যে চুরি করে গাড়ি চালাতে হবে ? আমরা প্রকাশ্যে গাড়ি চালাতে চাই। যাত্রী টেনে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। সেই পথ সৃষ্টি করুন। অন্যথায় আমরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। আমাদের প্রস্তাব গাড়িতে ব্যাটারি থাকার সুযোগ দিতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আসা রিকশা ভ্যানকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। আমাদের লাইসেন্স দিন। শহরের ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রন করুন। আমরা সহনীয় ভাড়া নিয়ে যাত্রী সাধারনকে সহজে সুলভে এবং তাড়াতাড়ি তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে চাই। এ ভাবেই আমরা বেঁচে থাকতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আবদুর রউফ, হারুনার রশীদ, মতিয়ার রহমান, মুজিবর রহমান, কবিরুল ইসলাম, আবদুল মালেক, কবির হোসেন প্রমুখ।

শেয়ার