শ্যামনগরে ঘের ব্যবসায়ী আছাদুর রহমান হত্যাকান্ডে আটক দু’জনের স্বীকারোক্তি

সরদার সিদ্দিক, শ্যামনগর ॥ নুরনগরের চিংড়ী ব্যবসায়ী আছাদুর রহমান হত্যাকান্ডে লিটন (২৪) ও সোহান ওরফে সুমনকে (২৫) শনিবার বেলা ১২টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন চুনোখালী বিল এলাকা থেকে শ্যামনগর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। লিটন শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের আব্দুল গফ্ফারের ছেলে। অপর সহযোগী সুমন যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা লিটন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পিতা নুরনগরের পার্শ্ববর্তী আড়ংগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার বাদি হয়ে মামলা করবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এদিকে হত্যার মাত্র ১২/১৪ ঘন্টার মধ্যে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করা শ্যামনগর থানা পুলিশের জন্য বেশ সাফল্যের বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য শুক্রবার রাতে নুরনগর বাজার সংলগ্ন দেওড়াবাড়ী এলাকায় নিজ মৎস্য খামারে যাওয়ার সময় ছিনতাকারীর হাতে চিংড়ী ব্যবসায়ী আছাদুর রহমান (৩৮) নিহত হন। রাত ৮টার দিকে দেওড়াবাড়ী নুরনগর বাজার সংযোগ সড়কের উপর তার রক্তমাখা দেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা তাকে নিকটস্থ আইয়ুব হোসেনের ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আছাদুরের গলা ও কোমরের নিচে গভীর ক্ষতের চিহ্ন ছিল বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানান। হত্যাকান্ডের পরপরই স্থানীয়রা ছিনতাইকারীর হাতে আছাদুর নিহত হয়েছে বলে ধারণা পোষন করলেও হত্যাকান্ডে জড়িতদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেনি। এদিকে হতাকান্ডের পরপরই শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী নিজে ঘটনাস্থলে যেয়ে হত্যাকান্ডের তদন্ত শুরু করেন। রাতে সন্দেহভাজন কয়েক জায়গায় অভিযানও পরিচালনা করেন তারা। স্থানীয় আশরাফ হোসেনসহ অন্যরা জানায় অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন, উপ-পরিদর্শক শংকর, সহকারী উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একাধিক টিম রাত থেকে মাঠে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে শনিবার বেলা ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত সংলগ্ন চুনোখালী বিলে একটি ঘেরের বাসা থেকে তাদের দু’জনকে আটক করে পুলিশ।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী জানান, হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশ মাঠে ছিল। দ্রুত সমেয়র মধ্যে খুনি ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে পারায় সকলকে ধন্যবাদ। তিনি আরও জানান প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে উভয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নিহতের পিতা বাদি হয়ে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে অপরাধীরা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। তবে এই হত্যাকান্ডের নেপথ্য কেবলই ছিনতাই না, নেপথ্যে আরও কোন রহস্য আছে কিনা তা দ্রুত সময়ের মধ্যে উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নুরনগর বাজারের ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন, আজিজুর ও পথচারী সফিকুলসহ অন্যরা জানিয়েছে লিটন এলাকার উচ্ছৃংখল যুবক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। সে প্রায়ই বহিরাগত অপরাধীদের নিয়ে নুরনগর বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চুরি ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে আসছে বহুদিন ধরে। তারা আরও জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগেও লিটন ও তার দুই সহযোগী সিরাজপুর গ্রামের এক তরুনকে মারধর করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত্ত করে। এদিকে আছাদুর রহমান হত্যাকান্ডের পরপরই হত্যারহস্য উদঘাটনসহ ঘাতক গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

শেয়ার